কে বা কারা আমাকে যাদু করেছে

কে বা কারা আমাকে যাদু করেছে?
মানুষের স্বভাবজাত বিশিষ্ট হচ্ছে, অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের প্রতি বেশি আগ্রহী হওয়া, সকলের বুঝার সুবিধার্থে নিচে কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করা হলো।
ঘটনা-১ঃ
এক ব্যক্তি ইনবক্সে তার সমস্যা জানানোর পর সমাধান না চেয়ে পেছনের কারন জানতে চাইলেন, সমস্যাটা উনার ছিলো না, ছিলো উনার মামীর, সমস্যা শুনে মনে হচ্ছিলো বদনজর আর সিহরের সমস্যা (বাকি আল্লাহ তা'আলাই ভালো জানেন)।
উনাকে বললাম বদনজর আর সিহরের সমস্যা হতে পারে, মজার ব্যাপার হচ্ছে উনারা নিজেরাও জানেন এই সমস্যা, কিন্ত উনি চাচ্ছিলেন এই ঘটনার পেছনে কে আছে (কে এটা করেছে) তা জানতে, আমি উনাকে যতই বুঝানোর চেষ্টা করি উনি কিছুতেই বুঝেন না, উনার একই কথা উনাকে জানতে হবে আর উনি আমাকে নক দিয়েছেন এই কারনেই যে কেউ ইস্তেখারা করে কিনা। উনাকে এমন একজন আলেম খুঁজে দিতে হবে যিনি কিনা জানাবেন (ইস্তেখারার মাধ্যমে) আসল ঘটনা কি, এর আগে তিনি বহুজনকে দিয়ে ইস্তেখারা করিয়েছেন, কিন্তু তিনি বিশেষ কিছু জানতে পারেন নাই, তাই তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন।
তার উপরে তার অভিযোগ ছিলো যে, এতো এতো ইস্তেখারা করছি (অন্যকে দিয়ে করিয়েছি) সমস্যা তো কমেনি ! আমি উনাকে বুঝানোর চেষ্টা করলাম যে ইস্তেখারা করেছেন ভালো কথা এখন একটু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন, সমস্যা সমাধানের জন্য তো মানুষ ইস্তেখারা করেনা, কিন্তু উনি নাছোড়বান্দা !! উনি ইস্তেখারাই করবেন আবার।
ওয়াল্লাহি, উনি যতসময় ধরে ইস্তেখারা করছেন তত সময় যদি সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন, আল্লাহ চাহেন তো তার সমস্যা সমাধান হয়ে যেতো।
ঘটনা-২ঃ
একজনের এস.এম.এস. ছিলো এমন............
প্রশ্নঃ আপনি কি কবিরাজ? ?
আমিঃ না .......।
প্রশ্নঃ আপনি কি গননা করেন? (মানে উনি বলতে চাচ্ছিলেন গায়েব জানি কিনা)
আমিঃ না .... গণনা করিনা, গায়েবও জানিনা, গায়েবের খবর একমাত্র আল্লাহ তা'আলা জানেন, কোন মানুষেরই গায়েব জানার/বলার ক্ষমতা নাই, আর যারা এইগুলা করে বা বলে তাদের থেকে দুরত্ব বজায় রাখাই উত্তম। {[বর্ধিতঃ যেখানে নবী-রাসূল আলাইহিস সালাম গণকে আল্লাহ তায়ালা গায়েব জানার বা বলার ক্ষমতা দেন নাই সেখানে কোনো ব্যক্তি (গণক, কবিরাজ, পীর বা কোনো আলেম নামধারী) যদি গনণা করে বা গায়েব জানে বলে দাবী করে তাহলে ওই ব্যক্তি একজন বড় মিথ্যুক এবং ভন্ড নয়তো কি?]}
আমার উত্তরে ঊনি খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারলেন না,পরে উনার কথা শুনে যতটুকু বুঝলাম উনি এমন কাউকে খুঁজছেন যিনি কিনা হাত গননা করেন (ঠিক-বেঠিক যাই হোক কারো নাম বলে দিবে এমন কাউকেই উনার দরকার), মানে উনার সমস্যা সমাধানের থেকে সমস্যার পেছনের কারন জানা দরকার।
ঘটনা-৩ঃ
পরিচিত এক আন্টি যাদু-টোনার সমস্যায় ভুগছিলেন, অনেক হুজুর কবিরাজ দেখিয়েছেন, যাইহোক এইবার কোন এক কবিরাজ উনাদের বলেছেন যে উনার খুব কাছের এক আত্মীয় (নির্দিষ্ট করে নাম বলে দিয়েছেন) উনাদের যাদু করেছেন, ব্যাস! আন্টিরা উনাদের সেই আত্মীয়কে ধরলেন, আর এরপরের বাকিটা ইতিহাস........। {[বর্ধিতঃ উনার কাছে সমস্যার সমাধান হওয়াটা জরুরি নয়, কে করেছে তার নাম জানাটা এবং এ নিয়ে মহা ঝামেলা বাঁধানোই মূল উদ্দ্যেশ্য, অথচ নাম জানা এবং এ নিয়ে বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিষেধ আছে ]}
ঘটনা-৪ঃ
এক আপুর কথা বলি উনারও সিহরের সমস্যা, বেশ কয়েকবছর থেকে ভুগতেছেন, উনার যে ধরনের সমস্যা সেই সমস্যা থেকে অনেকেই শিফা লাভ করছেন আলহামদুলিল্লাহ, কিন্তু ঊনার বিশেষ কোন ফায়দা হয়না, কারন উনি সমস্যা সমাধানের থেকে পেছনের কারনগুলো নিয়ে বেশি ব্যস্ত, এর পেছনে কি কারন থাকতে পারে? কে বা কারা এইটা করেছে?
উপরে তো শুধুমাত্র চারটা ঘটনার কথা বললাম এ যাবৎ পর্যন্ত যত জনের সমস্যা শুনেছি তাদের বেশিরভাগই এ ধরনের চিন্তা ভাবনা পোষন করেন, অনেকে তো আরো কয়েকধাপ এগিয়ে উনারা নিজেরাই জানেন কে বা কারা এ ঘটনার পেছনে আছেন, আর সেটা পাবলিকেলী বলেও বেড়ান, যদি বলা হয় আপনি এটা কিভাবে জানছেন? উত্তর আসে অমুক হুজুর,তমুক কবিরাজ এর কাছে গিয়ে জেনেছেন, অনেকে আবার আলেম ব্যক্তি, বুজুর্গ ব্যক্তি ইনাদের থেকেও নাকি শুনেন, অনেক হয়েছে এইবার বন্ধ করেন এইসব, আর কত!!!
আপনি শিরক কুফরের ভয়ে রুকইয়াহ করাতে চাচ্ছেন অথচ সমস্যার কারন জানার জন্য আবার তাদের কাছেই যাচ্ছেন, ব্যাপারটা হচ্ছে এমন, চুরি করা গুনাহ দেখে আপনি চুরি করা বাদ দিয়ে ছিনতাই শুরু করেছেন, অথচ এ সম্পর্কে হাদিস শরিফে নানাভাবে হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "যে ব্যাক্তি কোন জ্যোতিষীর নিকট গেলো এবং তার নিকট কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করলো তবে ৪০ রাত পর্যন্ত তার নামাজ কবুল হবেনা।" (সহিহ মুসলিম)
অন্য এক হাদিসে আছে,"যে ব্যক্তি জ্যোতিষি,যাদুকর বা কোন গনকের নিকট আসলো আর সে যা বলে তা বিশ্বাস করলো তাহলে সে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা আস্বীকার (কুফুরি) করলো।" (তারগীব ৪/৫৩)
এরপরে আর কিছু বলার দরকার আছে বলে আমার মনে হয়না,
বেশিরভাগ ভিক্টিমই তাদের সমস্যার কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমার অমুক আত্মীয় আমাকে যাদু করেছে, কেউ কেউ পরিবারের সদস্যের কথাও বলেন, অথচ আমাদের একে অপরকে সন্দেহ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, তারপরেও আমরা ওই কাজই করছি, তাও আবার কার কথা শুনে !!!? যাদুকর, কবিরাজ এদের কথা শুনে, যারা কিনা শয়তানের সাহায্য নেয়, আর শয়তান? যে কিনা আপনাকে জান্নাতে যেতে না দেয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ (আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাথে চ্যালেঞ্জ পর্যন্ত করার দুঃ সাহস পর্যন্ত করেছে এই মানুষকে জাহান্নামী করার ব্যাপারে)
তাহলে এখন ভাবুন আপনি কোন পথে যাবেন? আপনি কেন বুঝতেছেন না এইটা শয়তানের একটা সুক্ষ্ম চাল আমাদের গোমরাহ করার, আমাদের দিয়ে শিরক কুফরের মত ভয়ংকর গুনাহ করানোর, অন্যদিকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা খুবই কাছের হন, আর এর ফলাফল হয় আত্মীয়তার সম্পর্কে ফাটল, আর এইটা সবারই জানা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী কখনো জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা।
তাহলে এতকিছু করে আপনার লাভটা হলো কি?
১) গুনাহের খাতায় নতুন নতুন গুনাহ যোগ,
২) মানুষিক অশান্তি,
৩) জান্নাতে প্রবেশ না করতে পারার গ্যারান্টি।
আর হ্যাঁ একটা অনুরোধ আপনি যখন আপনার সমস্যার কথা জানাবেন তখন দয়া করে এই বিষয়গুলো পরিহার করবেন, কোন কবিরাজ, কোন হুজুর আপনাকে কি বললো বা কোন আত্মীয় আপনাকে কি করলো এইগুলা জানার কোন প্রয়োজন নেই আমাদের, আমরা বিশ্বাস করি একমাত্র আল্লাহ রব্বুল আ'লামীনই গায়েব জানেন, তিনি ব্যতীত অন্য কোন মাখলুকাতের গায়েবের খবর বলার ক্ষমতা নেই।
সুতরাং যারা এই গুলা বলে বা করে তাদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন, আর ইতিমধ্যে যদি এমন কিছু আপনার দ্বারা হয়ে যায় তাহলে তার জন্য দ্রুত তওবা করুন, কেননা ইস্তেগফারই সমস্যা সমাধানের উত্তম চিকিৎসা, আল্লাহ রব্বুল আ'লামীন আমাদের সকলকে শিরক, কুফরের মত ভয়ংকর গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন। আমীন।
লিখেছেনঃ উম্মে আব্দুল্লাহ (আল্লাহ তায়ালা তাকে উত্তম...