বাচ্চা কারা ও বাচ্চাদের রুকইয়াহ

[ক]
বাচ্চা কারা?
– জন্মের পর থেকে এখনো বালেগ হয়নি যারা তারাই বাচ্চা।
বাচ্চাদের সমস্যাগুলোঃ
১। খাওয়া-দাওয়া করতে চায় না।
২। রাগ-জিদ বেশি।
৩। কথা শোনে না, বেয়াদব।
৪। পড়াশুনা করতে চায় না।
৫। টিভি, কার্টুন, মোবাইল, গেম নিয়ে সারাদিন পড়ে থাকে।
৬। বয়সের তুলনায় কথা বলতে পারে না।
৭। বয়সের তুলনায় বুঝে কম।
৮। খাওয়া-দাওয়া ঠিক থাকার পরেও স্বাস্থ্য খারাপ
৯। কথা বেশি বলে কিন্তু কখন কি বলতে হবে বুঝে না।
১০। মারামারি করে
১১। বড় হয়েছে, তারপরও ঘুমালে বিছানা নষ্ট করে
১২। দুধের বাচ্চা মায়ের বুকের দুধ খেতে চায় না। মুখের কাছে নিলে ঠেলে সরিয়ে দেয়, কাঁদে।
১৩। রাতে ঘুমের মধ্যে ছটফট করে, চিৎকার দিয়ে জেগে উঠে কাঁদতে থাকে।
১৪। অকারনেই ভয় পায়, কিছু একটা দেখে ও সেদিকে ইশারা করে, তাকিয়ে থাকে।
১৫। সময় সময় চেহাড়ার রঙ পরিবর্তন হয়ে যায়, চেনা যায় না।
১৬। রেগে গেলে শরীরে অস্বাভাবিক শক্তি চলে আসে যা বয়সের সাথে মানানসই নয়।
১৭। অটিজমে আক্রান্ত।
[খ]
বাচ্চাদের মোটামুটিভাবে এই সমস্যাগুলোই হয়। এখন কথা হল, ১ থেকে ৭ নং সমস্যাগুলো বেশ কমন সমস্যা। জাতীয় সমস্যা টাইপ। যেসব বাচ্চাদের কেবল এই সমস্যাগুলোই আছে তাদের অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ হল, বাচ্চাদের অধিক সময় দিন। বাবা-মার মনোযোগ আকর্ষন করার জন্য বাচ্চারা রাগ জিদ করে। কাজেই তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। সে যেটা চাইছে সেটা যদি তার জন্য ভাল না হয় তাহলে তাকে বুঝিয়ে বলুন। বার বার বুঝিয়ে বলুন। তারপরও মানতে না চাইলে তার মনোযোগ অন্য কোনদিকে ঘুড়িয়ে দিন। তার জিদের কাছে যদি হার মানেন তাহলে সে নিজের চাহিদা পূরণের জন্য বার বার জিদ করবে। যেটা তার জন্য ক্ষতিকর সেটা তাকে কখনই দিবেন না, সে যতই জিদ করুক। কাঁদতে কাঁদতে বমি করে দিলেও না।
খাবারে বৈচিত্র আনতে হবে। ফল খেতে চায় না? জুস করে দিন। ভাত খেতে চায় না? তাকে নিজে নিজে খেতে দিন। ছড়িয়ে ছিটিয়ে খেলেও খেতে দিন। বিকল্প পুষ্টিকর খাবার খেতে দিতে পারেন। ছাতু, আখের গুড় খেতে দিতে পারেন। বাইরের খাবার পছন্দ করলে সেগুলো ঘরেই বানিয়ে দিন। এভাবে বিভিন্ন কিছু চিন্তা করতে পারেন। এভাবে বাকি পয়েন্টগুলো নিয়েও চিন্তা-ভাবনা করে দেখতে পারেন।
[গ]
কিন্তু এই সমস্যাগুলোই যদি হঠাৎ করে দেখা দেয় তবে নজরের রুকইয়াহ করা উচিত। আর পরের সমস্যাগুলো যদি কোন বাচ্চার দেখা দেয় তাহলে নজরের রুকইয়াহ করবেন। ইনশাআল্লাহ উপকার পাবেন। তবে রুকইয়াহ প্রসঙ্গে যাবার আগে আরও দুই-একটা কথা বলি।
আক্বিকাঃ অনেক অভিভাবক আছেন বাচ্চার হবার পর আক্বিকা দিতে দেরি করেন। এটা মোটেও ঠিক না। বরং গর্ভাবস্থার জটিলতার জন্য আমরা যেভাবে প্রস্তুতি নেই বাচ্চার আক্বিকার জন্যও সেভাবে প্রস্তুতি থাকা উচিত। এতে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ হল। কেউ কেউ আক্বিকাকে সন্তানের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতার জন্য সহায়কও বলেছেন। হাদিসের ভাবার্থ অনুযায়ী শিশুর হিফাজতের জন্য আকিকার গুরুত্ব রয়েছে।
মায়ের সমস্যাঃ বিশেষত ছোট বাচ্চার জন্য ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে মায়ের সমস্যা বাচ্চাকে প্রভাবিত করে। যেমন, বুকের দুধ খাওয়া বাচ্চার স্বাস্থ্য অনেক সময় মায়ের খাদ্যাভ্যাসের উপর নির্ভর করে। মার পেটে সমস্যা হলে বাচ্চারও হয়। একইভাবে, মায়ের যদি বদনজর, জ্বিন, যাদু সংক্রান্ত সমস্যা থাকে তাহলে তা বাচ্চাকে প্রভাবিত করতে পারে। কাজেই বাচ্চার রুকইয়াহ করার সাথে সাথে অভিভাবকদের নিজেদের সমস্যার ব্যাপারেও চিন্তা-ভাবনা করা উচিত।
কৃমিঃ বাচ্চার স্বাস্থ্য না বাড়ার অন্যতম কারন এটি। কাজেই ডাক্তারের পরামর্শে সময় সময় মা এবং বাচ্চা দুজনেরইর কৃমি ওষুধ খাওয়া উচিত।
তাবিজঃ অনেক গর্ভবতী মা ইচ্ছায় হোক বা চাপে পড়ে হোক গর্ভাবস্থায় তাবিজ ব্যবহার করে থাকেন। তাদেরকে বলা হয় এই তাবিজ হল বাচ্চার যেন কোন ক্ষতি না হয় তার তাবিজ। অনেকটা বাচ্চার জন্য আল্লাহ তায়ালা যথেষ্ঠ নন। (নাউযুবিল্লাহ) জন্মের আগেই বাচ্চার পিছনে শয়তান লাগানোর অনেক বড় একটা ষড়যন্ত্র এই তাবিজ। দেখা যায়, একজন মা কোন ধরনের প্যারানরমাল সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন না। কিন্তু এসব কুফরী/শিরকি তাবিজের প্রভাবে তিনি এবং তার সন্তান নানা ধরনের জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছেন। কাজেই রুকইয়াহ করার আগে তাবিজ অবশ্যই নষ্ট করে ফেলতে হবে।
তাবিজ নষ্ট করবেন যেভাবে তা জানতে এই লিংক ফলো করুন-
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/370820854749662
ছবিঃ বাচ্চাদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার না করাই নিরাপদ। মূলত অহেতুক কোন ছবি শেয়ার/তোলা থেকে বিরত থাকাই সাবধানতা।
[ঙ]
এবার রুকইয়াহ নিয়ে কথা বলি।
প্রথম ধাপঃ
বাচ্চাদের রুকইয়াহ করার জন্য প্রথমে যে কাজটা করবেন তা হল ঘরের সবার অযুর ব্যবহার করা পানি একটি পাত্রে জমা করবেন। তারপর গোসলের আগে সেই পানি বাচ্চার গায়ে ঢেলে দিবেন। এরপর ইচ্ছামত যেভাবে গোসল করানোর করবেন। বাচ্চাদের অনেকসময় ঘরের লোকদেরই নজর লাগে। তাই এই ব্যবস্থা। আর যদি জানা থাকে বা অনুমান করতে পারে বাচ্চার ওপর কার নজর লেগেছে, তাহলে শুধু তার অযুর পানি নিবেন। এই পদ্ধতি একবার করাই যথেষ্ঠ হবে ইনশাআল্লাহ।
দ্বিতীয় ধাপঃ
প্রথম ধাপ পার করার পরও যদি তেমন উন্নতি চোখে না পড়ে তাহলে এই পদ্ধতি অনুসরন করতে পারেন। বাবুর মাথায় হাত রেখে এই দুয়াগুলো পড়বেন এবং মাঝেমাঝে বাবুর গায়ে ফুঁ দিবেন, এভাবে কয়েকবার করবেন। বাবু যদি নিজেই পড়তে পারে তাহলে নিজের মাথায় বা বুকে হাত রেখেই পড়বে। অথবা পড়ার পর দু’হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে নিলেও হবে।
১.
أُعِيْذُكُمْ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উ”ঈযুকুম বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-ম্মাহ। মিং কুল্লি শাইত্বা-নিও- ওয়াহা-ম্মাহ। ওয়ামিং কুল্লি “আঈনিল্লা-ম্মাহ।
২.
بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللَّهُ يَشْفِيكَ، بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
বিসমিল্লা-হি আরকীক। মিং কুল্লি শাইয়িই ইউ’যীক। মিং শাররি কুল্লি নাফসিন আও “আইনি হাসিদ। আল্লা-হু ইয়াশফীক। বিসমিল্লা-হি আরকীক।
৩.
بِاسْمِ اللَّهِ يُبْرِيكَ، وَمِنْ كُلِّ دَاءٍ يَشْفِيكَ، وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ، وَشَرِّ كُلِّ ذِي عَيْنٍ
বিসমিল্লা-হি ইউবরীক। ওয়ামিং কুল্লি দা-ঈই ইয়াশফীক। ওয়ামিং শাররি হাসিদিন ইযা- হাসাদ। ওয়া শাররি কুল্লি যী “আঈন ।
৪.
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبْ الْبَاسَ، اشْفِ وَأَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
আল্লা-হুম্মা রাব্বান না-স। আযহিবিল বা’স । ইশফি ওয়াআংতাশ শা-ফী। লা-শিফাআ ইল্লা-শিফাউক। শিফাআল লা-ইউগা-দিরু সাক্বামা-।
দোয়াগুলোর বড় ফন্টের ছবি প্রথম কমেন্টে পাবেন।
এরপর সুরা ফাতিহা এবং আয়াতুল কুরসি ১বার। এবং সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস ৩ বার পড়বেন এরপর বাবুকে ফুঁ দিবেন। চাইলে সুরা ফালাক নাস অনেকবার পুনরাবৃত্তি করতে পারেন। এটা আম রুকইয়াহ। সবধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি উপকারী।
তৃতীয় ধাপঃ
সমস্যা বেশি হলে উল্লেখিত পদ্ধতিতে রুকইয়াহ করা শেষে, এগুলো আরেকবার পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন কয়েকবার বাবুকে খাওয়াবেন এবং বালতির পানিতে ফু দিয়ে সেই পানি দিয়ে গোসল করাবেন। তবে বাথরুমে বসে এসব দোয়া/আয়াত পড়বেন না। বালতি বাইরে নিয়ে এসে পড়বেন। সমস্যা ভালো হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন করবেন এই দুটো কাজ। এছাড়া কোন অঙ্গে ব্যাথা থাকলে এসব দোয়া-কালাম পড়ে তেলে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন মালিশ করতে পারেন।
উল্লেখিত সবগুলো দোয়া রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হাদিস থেকে নেয়া।
[চ]
রুকইয়ার ইফেক্টঃ
বাবুর রুকইয়াহ করলে অনেক সময় সাথে সাথে টয়লেট হতে পারে, বমি হতে পারে। এমন হলে ইনশাআল্লাহ দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবে। আবার অনেক সময় জ্বর, সর্দি ইত্যাদি হতে পারে। মোট কথা রুকইয়াহ করার পর যদি কোন অবস্থার অবনতি হয় তাহলে বুঝতে হবে রুকইয়াহ কাজ করা শুরু করেছে। তখন আরও ধৈর্য্যের সাথে যত্ন নিয়ে রুকইয়াহ চালিয়ে যেতে হবে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। এভাবে কমপক্ষে ৭ দিন করা উচিত (দ্বিতীয় ও তৃতীয় নিয়মের রুকইয়ার ক্ষেত্রে) ।
নোটঃ
১) যদি বুঝতে না পারেন বদনজরের সমস্যা কিনা তবুও বদনজরের রুকইয়াহ করতে পারেন। এর কোন ক্ষতি নেই। যদি নজর সংক্রান্ত কোন সমস্যা থাকে তাহলে ইনশাআল্লাহ চলে যাবে। আর যদি না থাকে তাহলেতো নেই-ই। এর কোন সাইড ইফেক্ট নেই।
২) অন্যান্য রোগের জন্যও এই নিয়মে রুকইয়াহ করতে পারেন, ইনশাআল্লাহ উপকারী হবে।
৩) ডাক্তারী সমস্যার জন্য অবশ্যই এর পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।
[ছ]
বয়স হয়ে যাবার পরেও যারা বিছানা নষ্ট করেঃ
তাদের ক্ষেত্রে পরামর্শ হল, রাতে বিছানায় যাবার কমপক্ষে এক ঘন্টা আগে রাতে খাবার শেষ করবেন। এরপর বিছানায় যাবার আগে টয়লেট সেরে অযু করাবেন। এরপর নিচের লিংকে দেয়া ঘুমের আগের আমলগুলো করাবেন। যারা নিজেরা পড়তে পারে না তাদেরকে অন্য কেউ পড়ে ফু দিবে। একইভাবে সকালে ও সন্ধ্যায় উল্লেখিত দোয়াগুলো পড়ে ফু দিবে। ইনশাআল্লাহ ধীরে ধীরে সমস্যা চলে যাবে।
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/153489036482846
বা,
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/160874742410942
[জ]
অটিজমে আক্রান্তঃ
১। প্রথমে ৭ দিন ডিটক্স করাবেন। ডিটক্সের লিংক-
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/395972452234502
পাশাপাশি ruqyahbd.org/download লিংক থেকে বিভিন্ন কারীদের সাধারন রুকইয়াহ (১১ থেকে ২১ পর্যন্ত) থেকে যেকোন একটা শোনাতে পারেন।
একই সাথে সুরা আর-রাহমান শোনাবেন। যদি আপনি নিজে তেলাওয়াত করে শোনাতে পারেন তাহলে আরও ভাল। নাহলে বিভিন্ন এপ্সে পাবেন বা ইন্টারনেট থেকে অডিও ডাউনলোড করে নিন।
২। ডিটক্স শেষ হলে সাধারন অসুস্থতার রুকইয়াহ করবেন। এর নিয়ম উপরের ২ এবং ৩নং পদ্ধতির মতই। নিচের লিংকে এবিষয়ে আরও বিবরণ পাবেন। এভাবে রুকইয়াহ চালিয়ে যেতে থাকবেন। আল্লাহ চাইলে উপকার পাবেন।
সাধারন অসুস্থতার জন্য রুকইয়ার লিংক-
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/441161064382307/
[ঝ]
সবশেষে একটি জরুরী কথা বলি। আপনি রুকইয়াহ করেন বা না করেন, আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দু’আ করবেন নিজের সন্তানের জন্য। নিজের কৃত পাপের জন্য তওবা ইস্তেগফার করবেন। সাধ্যমত দান-সদকা করবেন। ঘরে ইসলামী পরিবেশ কায়েক করবেন আর নামায ও পর্দার দিকে বিশেষ মনোযোগ দিবেন। ইনশাআল্লাহ অনেক বিপদ-আপদ, রোগবালাই থেকে বেচে যাবেন। ...