সম্পর্ক নষ্টের যাদুর রুকইয়াহ

সম্পর্ক নষ্টের যাদুর সমস্যায় রুকইয়াহঃ
কারো সাথে কারো সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটানোর জন্য যাদু করলে / তাবিজ করলে দেখা যায়- সব ভালোই ছিল, হঠাৎ একজন অপরজনকে সহ্য করতে পারছেনা, এই যাদু যেমন স্বামী-স্ত্রীর
মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরাতেদ্রা হয়, তেমনিভাবে পরিবারের অন্যান্য সদস্য যেমন পিতা-মাতা-ভাই-বোন এসব সম্পর্কে ফাটল ধরাতেও করা হয়, দুই বন্ধু, ব্যবসার পার্টনারদের মাঝে ঝামেলা বাধাতেও করা হয়, আর কখনো এমন হয়, বিয়ের আগে কেউ যাদু করে রেখেছে, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো ভাবেই মিল-মিশ হচ্ছেনা।
তো যাইহোক এই যাদুর পরিধি যেমন ব্যাপক, এর প্রাচীনকাল থেকে চর্চাও অনেক বেশি, এমনকি এই যাদুর কথা স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা কোরআনে বলেছেন- “..অতঃ পর তাদের কাছে তারা এমন জাদু শিখত, যা দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটে…।”সুরা [বাকারা: আয়াত নং-১০২]
আমাদের আলোচনা স্বামী-স্ত্রীর কথা উল্লেখ করেই করা হবে, এই অনুযায়ী অন্য সম্পর্কগুলোতেও ক্ষেত্রবিশেষ আপনারা মিলিয়ে নিবেন, এই যাদুতে আক্রান্ত হলে সচরাচর কিছু লক্ষণ দেখা যায়-
১. স্বামী বাহিরে থাকলে স্ত্রী ভালো থাকে, বাড়িতে আসলেই মন-মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।
২. দুজনের কেউ খুব বেশি সন্দেহ প্রবন হয়ে যায়।
৩. ছোট ছোট বিষয়ে ছাড় দিতে চায়না, ঝগড়া বেধে যায়।
৪. স্ত্রী দেখতে যেমনই হোক, স্বামীর কাছে খারাপ লাগে, ভালো আচরণ করলেও ভালো লাগেনা।
৫. স্বামী একটা যায়গায় বসেছে, বা একটা জিনিস ব্যবহার করেছে ওই জিনিসটাও স্ত্রী অপছন্দ করে।
৬. অন্যদের সাথে আচরণ স্বাভাবিক, কিন্তু স্বামী-স্ত্রী কথা বার্তা বলতে গেলেই উলটাপালটা শুরু হয়ে যায়।
এরকম ঘটনা যদি সচরাচর ঘটতেই থাকে, তবে বুঝতে হবে কোনো একটা ঘাপলা আছে, আর কথা হচ্ছে, প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই সব লক্ষণ মিলবে তেমন না ! তবে অন্তত ২-৩টা মিলে গেলে বুঝতে হবে সমস্যা আছে।
[গুরুত্বপূর্ণ নোটঃ এই যাদুর ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হচ্ছে, এই যাদু করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জ্বিন দিয়ে করা হয়, পাশাপাশি এমনি যাদুও করা হয়, অর্থাৎ জ্বিন ও যাদু দ্বারা একইসাথে আক্রান্ত হয়ে থাকে ]
প্রথমত: সাজেস্ট করবো নিজেদের মধ্যে কোনো আলেম/হাফেজ বা রুকইয়াহ করতে পারবে এমন কেউ থাকলে তাকে দিয়ে সরাসরি রুকইয়াহ করিয়ে নিন, এমন কেউ না থাকলে নিকটস্থ মসজিদ-মাদ্রাসার হুজুরদের কাছে গিয়ে রুকইয়াহ করিয়ে নিন, এটাও সম্ভব না হলে নিজে নিজে এই সমস্যার জন্য সেলফ রুকইয়াহ করেও ভালো ফলাফল পাবেন ইনশাআল্লাহ (তবে যদি পরিস্কারভাবে জ্বিনের সমস্যা বুঝতে পারেন, তাহলে কোনো আলেমকে দিয়ে রুকইয়াহ করানোই উত্তম হবে)
দ্বিতীয়ত: এই যাদুর চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিউর হতে অনেকের লম্বা সময় লাগে, এজন্য ধৈর্যহারা হওয়া যাবেনা, আল্লাহ তায়ালার উপর বিশ্বাস ও পূর্ণ ভরসা রেখে সবরের সাথে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।
মনে রাখবেন, আপনার শত্রু আপনার ক্ষতি করলেই সফল হয়ে যায়না, সে তখনই সফল হয়, যখন আপনি সমাধানের ব্যাপারে হাল ছেড়ে দেন। শয়তান আপনাকে দিয়ে গুনাহ করালেই সফল হয়না, বরং শয়তান তখনই সফল হয়, যখন আপনি নিরাশ হয়ে তাওবা করা ছেড়ে দেন। এজন্য একবার যদি বুঝতে পারেন সমস্যা আছে, তবে এর শেষ না দেখে ছাড়বেন না।
সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটানো যাদুর জন্য রুকইয়াহ:
[ক] প্রথম পদ্ধতিঃ
রাকীর জন্য রুকইয়াহ করার পদ্ধতিঃ
১. প্রথমে উপরের লক্ষণগুলোর ব্যপারে প্রশ্ন করে নিশ্চিত হোন, এরপর তৃতীয় পর্বে বলা নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে আপনি রুগীর পাশে বসে জোর আওয়াজে রুকইয়ার আয়াতগুলো পড়তে থাকুন, মাঝেমধ্যে ফুঁ দিবেন, যদি জ্বিনের সমস্যা থাকে তবে রুগীর ওপর জ্বিন চলে আসবে, তখন জ্বিন সিরিজের ৬ষ্ঠ-৭ম পর্বে যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবে সামলাবেন, জ্বিন এলে জিজ্ঞেস করবেন- ‘কিভাবে যাদু করেছে, যেসব জিনিশ দিয়ে যাদু করেছে, সেগুলো কোথায় আছে, জ্বিনেরা যদিওবা খুব বেশি মিথ্যুক, তবুও যদি বলে ভালো, না বললে নাই।
সম্ভব হলে এটা জিজ্ঞেস করে, তারপর জ্বিন তাড়াবেন, আর যদি কোনো যায়গার কথা বলে সেখানে লোক পাঠিয়ে যাদুর জিনিসপত্র খুঁজে বের করবেন, সত্যি বলে থাকলে পাওয়া যাবে, মিথ্যা বললে পাবেন না।
যদি খুঁজে পান তবে "সুরা বাক্বারা ১০২, সুরা আ'রাফ ১১৭-১২২, সুরা ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯" এই আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে যাদুর জিনিশপত্র কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখতে হবে, তাহলে ইনশাআল্লাহ যাদু নষ্ট হয়ে যাবে।
যদি বলে কোনোকিছু খাইয়ে যাদু করা হয়েছে, বা যাদুর পানি রাস্তায় ছিটিয়ে দেয়া হয়েছে, তবে সরাসরি নিচের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করতে বলে দিন, এবং বলুন ১ সপ্তাহ পর যেন আপডেট জানায়।
যদি জ্বিন বলে অমুক যায়গায় যাদুর জিনিশ লুকানো আছে, কিন্তু আমি বিস্তারিত জানিনা। তাহলে উপরের আয়াতগুলো পড়া পানি ওঁই যায়গায় কয়েকদিন ছিটালে ইনশাআল্লাহ যাদু নষ্ট হয়ে যাবে।
২. আর যদি জ্বিন না আসে। এমনি খুব অস্বস্তি বোধ করে, রুকইয়ার সময় টায়ার্ড হয়ে পড়ে, খুব মাথাব্যথা করে, কান্না পায়-তাহলে বুঝবেন জ্বিন দিয়ে যাদু করেনি, অন্যভাবে করেছে। তাহলে আরও ২/৩বার রুকইয়াহ করে দেখুন। এরপর [ঘ] পয়েন্টের প্রেসক্রিপশন দিয়ে দিন, এবং বলুন অবস্থা যেমনি হোক ১ সপ্তাহ পর যেন আপডেট জানায়।
৩. এক সপ্তাহ পর আবার শুরু থেকে রুকইয়াহ করে দেখুন, সমস্যার একদম ভালো হয়ে গেলে তো আলহামদুলিল্লাহ! হয়েই গেলো, আর পুরাপুরি ভালো না হলে তো বুঝতেই পারবেন, জ্বিনের সমস্যা হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন, আর যাদুর সমস্যা হলে আবার সেইম প্রেসক্রিপশন দিয়ে দিন, ইনশাআল্লাহ আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যাবে।
.
[খ] দ্বিতীয় পদ্ধতিঃ
বিচ্ছেদের যাদুর জন্য সেলফ রুকইয়াহ:
**প্রথমেই গাঁয়ে ঘরে কোনো তাবিজ বা কবিরাজি জিনিস আপনার ব্যবহারে থাকলে নিচের নিয়মে তা নষ্ট করে তাওবা করে তারপর রুকইয়াহ শুরু করবেন ইনশাআল্লাহ্।
তাবিজ/কবজ/কবিরাজি জিনিসপত্র নষ্ট করতে এই লিংক ফলো করুন-
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/370820854749662
এরপর হাতের কাছে এক বোতল পানি, কিছু পরিমান তেল (সরিষা বা অলিভ ওয়েল), পরিমান মত কালোজিরা ও কিছু পরিমান মধু নিয়ে বসুন এরপর "সুরা আ'রাফ এর ১১৭-১২২ নং আয়াত, সুরা ইউনুস এর ৮১-৮২ নং আয়াত, সুরা ত্বহার ৬৯ নং আয়াত" এই আয়াতগুলো পড়ে পানি, তেল, কালোজিরা ও মধুতে, ফুঁ দিন, এরপর সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস ৩ বার করে পড়ে আবারও পানি, তেল, কালোজিরা ও মধুতে ফুঁ দিন, কিছু পানি এখনি পান করুন আর ৭-১০ টি কালোজিরা ও হাফ টেবিল চামচ মধু খেয়ে নিন, বাকিটা সব রেখে দিন, এরপর নিচের প্রেসক্রিপশন ফলো করতে থাকুন যতদিন এডমিন করতে বলেন।
[প্রেসক্রিপশন]
১. রুকইয়াহ আয়াত পড়ে ফুঁ দেয়া এই পানি যতদিন রুকইয়াহ করতে বলা হয়েছে ততদিন সকাল-বিকাল দুইবেলা এক/আধ-গ্লাস করে পান করবেন, প্রতিদিন সকাল ও রাতে ৭-১০ টি কালোজিরা ও হাফ টেবিল চামচ করে মধু খাবেন এবং রাতের বেলা মাথার তালু, চোখ, নাক ও কানের ছিদ্রে তেল দিয়ে দিয়ে ঘুমাবেন, আর অঙ্গে কোথাও ব্যাথা থাকলে সেখানে এই তেল মাঝেমাঝে ম্যাসাজ করে দিবেন।
২. একইভাবে প্রতিদিন গোসলের পানিতে এখান থেকে এক গ্লাস পরিমান পানি মিশিয়ে গোসল করতে হবে, ঐ পানি যদি শেষ হয়ে যায়, তাহলে আবার এক বোতল পানি নিয়ে আগের মত আয়াতগুলো পড়ে পানি তৈরি করে নিতে হবে, নিজে শুদ্ধ করে পড়তে না পারলে অন্য কেউ পড়ে দিলেও হবে, মেয়েদের পিরিয়ডের সময় অন্য কেউ পড়ে দিবে, নিজেরা পড়বে না।
৩. আর প্রতিদিন
২. ৫/৩ ঘণ্টা করে রুকইয়াহ শুনতে হবে, আয়াতুল কুরসি'র রুকইয়াহ আধা ঘন্টা ৭ নং আর সুরা ইখলাস, ফালাক্ব, নাসের রুকইয়াহ আধা ঘন্টা ৬ নং, এবং ডাউনলোড লিংকের ২০ নং বা
২০. ১ নং অডিও শুনবেন প্রতিদিন ২ বার করে, কোনো দিন শোনা বাদ দিবেন না। (অডিও ডাউনলোড লিংকঃ ruqyah-seba-bd.com/audio-d/
৪. রুকইয়াহ ভালোভাবে কাজ করার জন্য নামাজ-ও অন্যান্য ফরজগুলো ঠিকঠাক মত আদায় ক্রতে হবে, ফরজ ইবাদাতে যেন ত্রুটি না হয়, মেয়েদের জন্য পর্দা করা ফরজ, তাই এ ব্যাপারেও গুরুত্ব দিতে হবে, আর গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে হবে।
৫ . সকাল-সন্ধ্যা ও ঘুমের আগে মাসনুন আমল বিশেষতঃ ৩ কুল (সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস) এর আমল ঠিকঠাক করবেন। মাসনুন আমলগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত পাবেন এখানে-
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/153489036482846
বা,
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/160874742410942
৬. ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমাবেন, আর ৩ বার করে ৩ কুল পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে নিবেন।
আপনার সাজেশনঃ
* রুকইয়ার পানি পান করতে হবে।
* কালোজিরা ও মধু খেতে হবে।
* নিয়ম মত তেল ব্যবহার করতে হবে।
* পানি মিশিয়ে গোসল করতে হবে।
* প্রতিদিন রুকইয়ার অডিও শুনতে হবে।
* গুরুত্বের সাথে নিয়মিত মাসনুন আমল করতে হবে।
* প্রতিদিন ১০০বার ইস্তিগফার এবং “লা-হাওলা ওয়ালা ক্বুওওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহ” পড়বেন। বেশি পড়লে আরো ভালো।
* সুরা ইয়াসিন, সুরা সফফাত, সুরা দুখান, সুরা জ্বিন- ৩বার শুনতে হবে, অথবা তিলাওয়াত করতে হবে হবে, কোনো দিন খুব ব্যস্ত থাকলে অন্তত একবার হলেও শুনবেন।
(যতদিনের জন্য রুকইয়ার সাজেস্ট করা হবে ততদিনে জন্য খাঁটি নিয়ত করে নিবেন, নতুন সাজেশন না পাওয়া পর্যন্ত আগের সাজেশন চালিয়ে যাবেন, যেনো কোনোদিনই মিসিং না হয়)।
এডমিনদের নির্দেশিত সময় পর্যন্ত আমল করা শেষ হলে সেখানেই আপডেট দিন, আর না হলে নতুন পোস্ট করে আপডেট জানাবেন।
বি.দ্র. রুকইয়াহ শুরু করলে প্রথম প্রথম সমস্যা বাড়তে পারে, পরে আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ, অন্য কারো জন্য রুকইয়াহ করলেও প্রেসক্রিপশন দেয়ার সময় এই কথাটা বলে দিবেন।
আল্লাহ আমাদের হিফাজত করুন। আমীন। ...