বিয়ে সংক্রান্ত সমস্যায়

যাদের বিয়ে হচ্ছেনা বা বিয়ে সংক্রান্ত সমস্যায় আছেন, তাদের জন্য খুবই গুরুওপূর্ণ ও কার্যকরী একটি পোস্টঃ
বিয়ের জন্যে কিছু আমল আছে, যা আপনি করতে পারেনঃ
যতদিন বেঁচে থাকবেন প্রতিদিন অবশ্যই মাসনুন আমল করবেন ইনশাআল্লাহ, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমল শিশু, নারী-পুরুষ, বয়স্ক সকলের জন্য। মাসনুন আমল পেতে এই লিংক ফলো করুন-
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/153489036482846
বা,
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/160874742410942
(১)
(ক) ইস্তেগফার, দুয়া, দরুদ ও চেষ্টা করতে থাকা।
(খ) যথাসম্ভব সার্বক্ষণিক ইস্তেগফার করা।
(গ) তারপর সুরা ফুরকানের ৭৪ নং আয়াতটা পড়তে পারেন
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
( রব্বানা- হাবলানা- মিন আঝওয়া-জিনা- ওয়া জুররিই ইয়াতিনা- ক্কুররাতা আ'ইউনিউ অয়া জাআ'লনা- লিল মুত্তাক্কি-না ইমামা-)
অনেকে বলেন ফরজ নামাজের পর পড়তে, কারণ হাদিসের ভাষ্যমতে, ফরজ নামাজের পর দুয়া কবুল হয়, আর এটাও একটা দুয়া!! (তিরমিযি -৩৪৯৯ হাসান)
(ঘ) বেশি বেশি দুয়া করা, বিশেষ করে দুয়া কবুলের মুহুর্তগুলো একটাও বাদ দেয়া উচিত না।
(ঙ) বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা।
(চ) আমলের পাশাপাশি হালাল পন্থায় পাত্র/পাত্রীর সন্ধান ও চেষ্টা করা।
(২) বাংলাদেশের সমাজের যেসব ফেতনা রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম 'জাদু/সিহর' এর চর্চা, আবার জ্বিনের সমস্যাও থাকে অনেকের, এমন অনেককেই দেখা যায়, যাদেরকে জাদু করে আটকে রাখা হয়, আবার জ্বিনেও বাধাগ্রস্থ করে থাকে, বয়স হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু বিয়ের প্রস্তাব আসছে না, অথবা প্রস্তাব আসলেও অজ্ঞাত কারণে ফিরে যাচ্ছে, এক্ষেত্রে আপনি গ্রুপে পোষ্ট দিয়ে গ্রুপের এডমিনদের জানাতে পারেন এবং যারা সহীহভাবে রুকইয়াহ করেন তাদের শরণাপন্ন হতে পারেন, পাশাপাশি নিজেও বিভিন্ন রুকইয়ার আমল করতে পারেন।
এখানে দেওয়া এই লিংকটি একাধারে ১ মাস বা এডমিন যে কয়দিনের সাজেশন দেন, তা ফলো করে আপডেট জানাবেন ইনশাআল্লাহ।
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/440392017792545
(৩) ভালো হয়, কিছু টাকা বা বস্তু সদকা করে দিলে, হাদিসে সদকার অনেক ফাজায়েল বলা হয়েছে। তারমধ্যে একটি হচ্ছে, সদকা দ্বারা বিপদাপদ দূর হয়। (ইবনে হিব্বান- ৩৩০৯)
ইবনুল কাইয়িম রাহ. বলেন, "সদকার আশ্চর্য প্রতিফল রয়েছে। এমনকি সদকা যদি, ফাসেক, জালেম ও কাফের থেকেও হয়।"
(৪) বিয়ের জন্যে পাত্র পক্ষকেই আগ বাড়িয়ে প্রস্তাব পাঠাতে হবে, এমন কোন বিষয় নেই, পাত্রীর পক্ষ থেকে কোনো গার্জিয়ান বা পাত্রী নিজেও প্রস্তাব পাঠাতে পারবে।
ইসলামের ইতিহাসে ৩/৪ জন মহিলা সাহাবীয়া আছেন, যারা বিয়ের জন্য নিজেরাই প্রস্তাব দিয়েছেন, সহীহ বুখারীতে একটা অধ্যায়ই আছে "মেয়ে কতৃক নিজেরাই ছেলেদেরকে বিয়ের প্রস্তাব প্রদান" নামে।
ইমাম নববী বলেছেন, কোন নেককার ও আখলাক ওয়ালা ছেলে পেলে তাকে প্রস্তাব দেয়া মুস্তাহাব।
যাইহোক, মেয়ে নিজে প্রস্তাব দেওয়ার চেয়ে ভালো হয় গার্জিয়ান এর মাধ্যমে প্রস্তাব দেওয়া,। যদি সে সুযোগ না থাকে তবে নিজেই প্রস্তাব পেশ করতে পারে, যদি পাত্র দ্বীনদার ও সালেহ হয়।
(৫) বিয়েতে দেখার বিষয় হচ্ছে, দ্বীনদারী ও আখলাক, এছাড়া স্বচ্ছলতা, পরিবার, সৌন্দর্য অনেকে বিবেচনা করে থাকেন, সেটার সুযোগও আছে, কিন্তু দ্বীনদারিকে প্রাধান্য দিতে হবে।
কারণ, আমাদের জীবনযাপন এর দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত জান্নাতকে কেন্দ্র করে, অসচ্ছলতা, অসৌন্দর্য এটা কেবল দুনিয়াতেই থাকবে, জান্নাতে গেলে সবাই সুন্দর হয়ে যাবে, সুতরাং এগুলো সাময়িক, মূল দেখার বিষয় দ্বীনদারি, এটাই জান্নাতে যেতে কাজে লাগবে, অনেক অর্থের মালিক, দারুন হ্যানসাম পাত্র / খুব সুন্দরি, রূপসী পাত্রী দেখে বিয়ে করা হলো, অথচ ঐ পাত্র/পাত্রীর দ্বীনদারির হালত খুবই নাযুক, দুনিয়াতে স্বচ্ছলতা মিলবে বটে, অনেক শখ ও উইশও পূরণ হবে, কিন্তু যদি আটকে যেতে হয় আখেরাতে গিয়ে, আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বোঝার তাওফিক দিন!
(৬) স্পেসিফিক (পছন্দের) পাত্র/পাত্রের সাথেই যেনো বিয়ে হয়, এভাবে কখনোই দুয়া করা উচিত না, কারণ তার মধ্যে আপাতদৃশ্যে কল্যাণ রয়েছে মনে হলেও, আপনার চোখে সে সবচেয়ে ভালো মানুষ এমনটা মনে হলেও, ভবিষ্যৎ এর অবস্থা এবং তার সাথে আপনার কল্যান নাকি অকল্যান রয়েছে তা একমাত্র আল্লাহ তায়া'লা জানেন, সুতরাং নিজের জন্যে দুনিয়া-আখেরাতে কল্যানকর হয় এমন পাত্র/পাত্রের জন্যেই দুয়া করা উচিৎ।
এভাবে দুয়া করা যেতে পারে-- "ঐ মানুষটা যদি আমার দুনিয়া ও আখেরাতের জন্যে কল্যাণকর হয়, তাহলে আমাকে পাইয়ে দাও, আর যদি তার মধ্যে অামার কল্যাণ না থাকে, তাহলে আমাকে এমন ব্যক্তি মিলায়ে দাও, যার মধ্যে তুমি আমার জন্যে দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ রেখেছো।"
(৭) এস্তেখারা করা, বিয়েতে অবশ্যই এস্তেখারা করা উচিত। ...