ব্রণের সমস্যায়

ব্রনের সমস্যার জন্য কি করবেন?
কখনও মুখে ব্রন হয়নি এমন মানুষ পাওয়া কষ্টকর, কারো কারো শুধু মুখে নয় শরীরের অন্য জায়গাতেও ব্রনের মত বের হয়, এটা একটা বিরক্তিকর সমস্যা, পরিপাটি সুন্দর চেহাড়া ব্রনের কারণে কুৎসিত হয়ে উঠে, একারনে যুবক-যুবতীদের অন্যতম শত্রু এই ব্রন!
ব্রণ হওয়ার জন্য প্রধানত আমরা দুটি কারন খুজে পাই, যেমনঃ -
১. প্রাকৃতিক কারন।
২. প্যারা-নরমাল কারন।
ব্রণ হওয়ার জন্য প্রাকৃতিক কারনগুলো ও তার প্রতিকারঃ
(ক) খাওয়ার অভ্যাসঃ খাওয়ার অভ্যাসে এলোমেলো থাকলে ব্রন উঠতে পারে, সঠিক সময় নিয়মমাফিক খাবার খাওয়া উচিৎ, সহজে হজম হয় এমন খাবার গ্রহণ করা উচিত, ভাজা, পোড়া, বাইরের খাবার থেকে যত বেঁচে থাকা যায় ততই মঙ্গল।
(খ) ঘুমের অভ্যাসঃ রাতে নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস করুন, পরিমাপ মতো যেনো ঘুমাতে পারেন সে দিকে খেয়াল রাখুন, দিনে ৬ ঘন্টা নয়, রাতে ৬ ঘন্টা ঘুমানোর জন্য নির্দিশট করুন, রাত এগারোটার দিকে শুয়ে পড়লে অনায়াসে ৬ ঘন্টা ঘুমুতে পারবেন।
(গ) কসমেটিক্সঃ যদি এমন কেসমেটিক্স ব্যবহার করেন যা আপনার স্কিনের সাথে যায় না তাহলেও ব্রন হতে পারে, এমনঅবস্থায় কসমেটিক্সে পরিবর্তন আনুন, যারা হোমমেড প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন তারা অন্যভাবে তৈরি করা কোন প্যাক ব্যবহার করতে পারেন, অনলাইনে এই ব্যাপারে যথেষ্ঠ রিসোর্স পাবেন।
(ঘ) পরিচ্ছন্নতাঃ বাইরে থেকে ঘরে এসে সাথে সাথে ত্বক পরিষ্কার করুন, সাবান দিয়ে বা সোপ টাইপের যেসব ফেসওয়াশ পাওয়া যায় তা দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন, ধুলো-বালি, তেল-কালি ত্বক থেকে চলে গেলে ব্রন হবার প্রবনতা অনেকটাই কমে যায়।
(ঙ) সুরক্ষাঃ প্রখর সূর্যালোক, সূর্য্যের অতিবেগুনী রশ্মি থেকে বেঁচে থাকতে ছাতা ব্যবহার করুন, বর্তমানে ছাতাগুলোতে অতিবেগুনী রশ্মি প্রটেকশনের ব্যবস্থা থাকে, মেয়েরা যারা নেকাব ব্যবহার করেন তারা সুরক্ষার দিক দিয়ে এগিয়ে আছেন এতে কোন সন্দেহ নেই।
(চ) ডাক্তার দেখানোঃ আপনার ব্রণের সমস্যার জন্য কোনো স্কিন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকেও পরামর্শ নিতে পারেন।
(ছ) হরমোনালঃ বয়ঃ সন্ধিতে ব্রন একটা কমন বিষয়, এটা নিয়ে খুব বেশি দুঃ শ্চিন্তার কিছু নেই, শরীরের গটন পূর্ণ হলেই ইনশাআল্লাহ ব্রন চলে যাবে।
ব্রণ হওয়ার জন্য প্যারা-নরমাল কারন ও তার প্রতিকারঃ
উপরের পয়েন্টগুলো ফলো করার পরেও যদি ব্রণের সমস্যা থেকেই যায় তাহলে এক্ষেত্রে আপনি বদ নজরের রুকইয়াহ করতে পারেন, যদি প্যারা-নরমাল সমস্যার কারনে ব্রণের সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে ব্রণ চলে যাবে ইনশাআল্লাহ, উল্লেখ্য, রুকইয়াহতে কোন ক্ষতি নেই, সমস্যা থাকলে উপকার পাবেন বা ইফেক্ট বোঝা যাবে, কিন্তু সমস্যা না থাকলে কোনো ক্ষতির সম্মুখিন হবেন না ইনশা আল্লাহ।
১) প্রথম পদ্ধতিঃ প্রথমে আপনি নিজের অযুর পানি দিয়ে গোসল করেন। অযুর ব্যবহার করা পানি একটা পাত্রে নিয়ে গোসলের আগে সেই পানি গায়ে ঢেলে দিন। এরপর স্বাভাবিক গোসল করবেন। যদি আপনার নিজের নজর নিজেকে লেগে থাকে তাহলে বদনজর কেটে যাবে ইন শা আল্লাহ।
২. দ্বিতীয় পদ্ধতিঃ যদি মনে করেন আপনার বাবা, মা, ভাই,বোন বা অন্য কোনো আত্বীয়-স্বজনদের কারো নজর লেগেছে তাহলে তার অযুর পানি যোগাড় করে ওই পানি দিয়ে একইভাবে গোসল করতে পারেন, একাধিক ব্যক্তির অযুর পানি একই সাথে নিয়ে গোসল করতে পারবেন।
এভাবে করতে বলছি কারন হল, আমার এক নিকট আত্মীয়ার বিয়ের আগে অনেক সুন্দর চুল ছিল, কিন্তু বিয়ের পর চুল পড়ে শেষ। হয়ত হাজবেন্ড বা শ্বশুড়বাড়ির কারও নজর লেগেছিল, তাই চুল পড়ে শেষ ( আল্লাহই ভাল জানেন), আর আশেপাশের লোকজনেরই তো নজর লাগার সম্ভবনা বেশি।
এভাবে করা সম্ভব হলে করবেন, ঝগড়া-ঝাটি করে কারও অযুর পানি আনার দরকার নেই, এভাবে অযুর পানি দিয়ে গোসল করতে অপারগ হলে ভিন্ন পদ্ধতিও আছে।
৩. তৃতীয় পদ্ধতিঃ যদি উপরের পদ্ধতি ফলো করেও উন্নতি না দেখেন বা উপরের পদ্ধতি ফলো করতে অপারগ হোন, তাহলে আপনি নিচের লিংকের নিয়মে রুকইয়াহ করবেন ১৫ দিন, নজরের রুকইয়াহ করলে শরীর খারাপ করতে পারে, তখন অফ করা যাবে না, বরং বুঝতে হবে রুকইয়াহ কাজ শুরু করেছে, (মেয়েদের ক্ষেত্রে যদি পিরিয়ড শুরু হয় তাহলেও রুকইয়াহ অফ করবেন না, পিরিয়ড চলাকালীন অবস্থায়ো রুকইয়াহ অডিও শুনতে পারবেন,কিন্ত নিজে তেলাওয়াত করতে পারবেন না, আর পানি অন্য কেউ পড়ে দিবে)।
গায়ে/ঘরে কোনো তাবিজ থাকলে খুলে তা নষ্ট করে, তওবা করে তারপর রুকইয়াহ শুরু করবেন। তাবিজ/কবজ বা কবিরাজি জিনিস নষ্ট করতে এই লিংক ফলো করুন-
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/370820854749662
এরপর বদনজরের সেল্ফ রুকইয়াহ করবেন। বদনজরের সেল্ফ রুকইয়াহ কিভাবে করবেন তা জানতে এই লিংক ফলো করুন-
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/441076407724106
যদি ব্রণ বেড়ে যায় তাহলে আরও ১৫ দিন একই নিয়মে রুকইয়াহ করবেন।
এক মাস শেষ হবার পর কি অবস্থা খেয়াল করুন, বদনজরের অডিও শুনলে ইফেক্ট যদি না হয় তাহলে বদনজরের রুকইয়াহ আর করবেন না, যদি ইফেক্ট হয় (মানে খারাপ লাগে যেটা নরমালি লাগার কথা না) তাহলে কন্টিনিউ করবেন, যখন আর ইফেক্ট হবে না তখন বুঝবেন আল্লাহর হুকুমে বদনজরের প্রভাব কেটে গিয়েছে এবং আর বদ নজরের রুকইয়াহ করতে হবেনা।
৪. চতুর্থ পদ্ধতিঃ বদ নজরের প্রভাব কেটে যাবার পরেও যদি দেখেন যে ব্রণ কমছে না, তাহলে নিচের লিংকের দুআ'গুলো পড়ে ডাক্তারের ঔষুধে/ব্যবহৃত প্রসাধনীতে ফু দিয়ে খাবেন / ব্যবহার করবেনঃ
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/370589448106136
এভাবে চালিয়ে যাবেন, আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দুয়া করবেন, নামায-পর্দা ও অন্যান্য ফরজ হুকুমগুলো ঠিকমত পালন করবেন, সকাল, সন্ধ্যা ও ঘুমের আগের মাসনুন আমল নিয়মিত গুরুত্বের সাথে আদায় করবেন। মাসনুন আমল পেতে এই লিংক ফলো করুন-
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/153489036482846
বা,
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/160874742410942
৫. পঞ্চম পদ্ধতিঃ উপরে বর্ণিত সকল পদ্ধতি ফলো করেও যদি দেখেন যে ব্রণ কমছে না, তাহলে হিজামাও করাতে পারেন, ব্রন অতিরিক্ত হলে হিজামা করালে অনেক উপকার পাবেন আশা করি, হিজামা কি তা জানতে এই লিংক দেখুন-
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/440914267740320
কেউ যদি আমাদের এই সাজেশন ফলো করেন, তাহলে আপডেট/অভিজ্ঞতা জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।
বি.দ্র. আপনার এমনটা মনে করার কোনো কারন নেই যে, প্যারা-নরমাল সমস্যার কারনেই আপনার এমন হয়েছে, বরং প্রাকৃতিক সমস্যার কারনেও হতে পারে।
__________________________...