যাদের কোল জুড়ে সন্তান আসছেনা তাদের জন্য পরামর্শ

যাদের কোল জুড়ে সন্তান আসছে না, তাদের জন্য কিছু পরামর্শঃ
পুর্বেই বলেছিলাম বর্তমান সময়ের আলোচিত কিছু সমস্যার মধ্যে একটা হচ্ছে বিয়ে বন্ধ আর আরেকটা হচ্ছে বাচ্চা না হওয়া।
আমরা ইতিমধ্যেই বিয়ে বন্ধ সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছি (আলহামদুলিল্লাহ), আজ আমরা বাচ্চা না হওয়া বা (বন্ধ্যাত্ব) সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ...
[ক]
বাচ্চা না হওয়ার পেছনে নানাবিধ কারন থাকতে পারে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই সমস্যার পেছনে বেশ কিছু কারণ বর্ণনা করা হয়েছে, আবার সেই অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতিও আবিষ্কার হয়েছে বর্তমানে, কিন্তু এর পরেও অনেকেই বাচ্চা কনসিভ করতে পারছেন না, অনেক চেষ্টা করেও কোন ফল পাচ্ছেন না, ফলে হতাশায় ভুগছেন, তাদের উদ্দ্যেশে প্রথম কথাই হচ্ছে সন্তান-সন্ততি দানের মালিক কিন্তু একমাত্র আল্লাহ তায়ালা, বিশ্বজগতের সবকিছু তাঁরই হাতে, আল্লাহ রব্বুল আ'লামীন বলেন___
لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَخْلُقُ مَا يَشَاء يَهَبُ لِمَنْ يَشَاء إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَن يَشَاء الذُّكُورَ
أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَإِنَاثًا وَيَجْعَلُ مَن يَشَاء عَقِيمًا إِنَّهُ عَلِيمٌ قَدِيرٌ
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহ তা’আলারই, তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।
অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন, নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল। [৪২: ৪৯-৫০]
সুতরাং একমাত্র আল্লাহ তায়ালার উপর ভরসা করে আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, শারীরিক কোন সমস্যা থাকলে সেজন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে, আর অবশ্য অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার উপরই ভরসা করতে হবে আর সর্বদা তার কাছেই সাহায্য চাইতে হবে।
[খ]
বেশি বেশি করে ইস্তিগফার করতে হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন --
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا
يُرْسِلِ السَّمَاء عَلَيْكُم مِّدْرَارًا
وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا
অনুবাদঃ অতঃ পর বলেছিঃ তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর, তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দিবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন। [সুরা নূহ: ১০-১২]
হযরত হাসান বশরি (রঃ) এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে তাঁর কাছে কেউ অনাবৃষ্টির অভিযোগ জানালে তিনি ইস্তিগফার করার শিক্ষা দিতেন, কেউ দরিদ্রতার অভিযোগ দিলে তিনি ইস্তিগফার শিক্ষা দিতেন, সন্তান না হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ জানালেও তিনি ইস্তিগফারের কথা বললেন, যখন তাঁকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলো যে তিনি কেন সবাইকে ইস্তিগফারের কথা বললেন তখন তিনি উপরোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন।
[গ]
পাঁচ ওয়াক্ত সালাত নিয়মিত আদায় এবং যিকর করা, সালাত ও যিকর অন্তরে প্রশান্তি আনে যা বিভিন্ন খারাপ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাহায্য করে, আল্লাহ তা'আলা বলেন
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اسْتَعِينُواْ بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ إِنَّ اللّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
হে মুমিন গন! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর, নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন। [সুরা আল-বাকারা: ১৫৩]
[ঘ]
বেশি বেশি করে দু'আ করা, মাসনুন দুয়াগুলো গুরুত্বের সাথে পড়া (ঘুম থেকে উঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত)।
এছাড়া হযরত যাকারিয়া (আ) সন্তান লাভের জন্য যে দুয়া করেছিলেন তা পাঠ করা।
رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِي
"হে আমার প্রতিপালক আমাকে একা রেখো না। তুমিই তো উত্তম ওয়ারিশ। (সুরা আম্বিয়া: ৮৯)
এই দু'আর বরকতে রব্বুল আ'লামীন হযরত যাকারিয়া (আলাইহিস সালাম) কে বৃদ্ধ বয়সে সন্তান দান করেছিলেন।
এছাড়া কুর'আনুল কারিমে বিভিন্ন স্থানে সন্তান সন্ততি লাভের জন্য দু'আর কথা বর্ণিত আছে। যেমন_____
رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَا
অর্থ: হে, আমার পালনকর্তা! তোমার নিকট থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান কর-নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী। [সুরা আল-ইমরান: ৩৮]
رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا وَلَمْ أَكُن بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّ
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা আমার অস্থি বয়স-ভারাবনত হয়েছে; বার্ধক্যে মস্তক সুশুভ্র হয়েছে; হে আমার পালনকর্তা! আপনাকে ডেকে আমি কখনও বিফল মনোরথ হইনি। [সুরা আল-মারইয়াম: ০৪]
তবে দু'আ কবুলের জন্য অবশ্যই বিনীত হয়ে কাকুতি-মিনতি সহকারে দু'আ করা, সৎকাজে প্রতিযোগীতা করা, আশা ও ভীতির সাথে তাঁকে ডাকা।
[ঙ]
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, একে অপরকে বুঝা, কুর'আন-সুন্নাহ মেনে চলা, আর হ্যা সহবাসের পুর্বের দুয়া অবশ্যই পাঠ করা।
[চ]
আর হ্যাঁ সর্বাবস্থায় তাঁর শুকরিয়া আদায় করা, আমাদের এইটা সবসময় মাথায় রাখতে হবে মহান রব্বুল আ'লামীন তাঁর বান্দাকে তাঁর হক্ব থেকে কখনো বঞ্চিত করবেন না, তাই নিরাশ না হয়ে তাঁর কাছে চাইতে হবে, আর তাঁর দেয়া অফুরন্ত নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে হবে।
[ছ]
আর যারা ভাবছেন আপনাদের সমস্যা প্যারানরমাল (বদ-নজর, জ্বীন, যাদু) রিলেটেড, তাহলে সাত দিনের ডিটক্স করে দেখতে পারেন। ডিটক্স এর নিয়ম পেতে এই লিংক ফলো করুন-
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/395972452234502
ডিটক্স করলে ভালো ফলাফল পাবেন ইন শা আল্লাহ।
এছাড়া বাচ্চা না হওয়ার সমস্যার ক্ষেত্রে হিজামা খুবই উপকারী, অনেকেই ফল পেয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ। জ্বীন/যাদুর কারনে বাচ্চা না হওয়ার পোস্ট টিও দেখতে পারেন ইন শা আল্লাহ, জ্বীন/যাদুর কারণে বাচ্চা না হওয়ার পোস্ট পাবেন এই লিংকে-
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/440377414460672
যদি আপনার/আপনাদের কারও সাথেে জ্বীন/যাদুর কারনে বাচ্চা না হওয়ার লিংক থেকে লক্ষনগুলো মিলে যায়, তাহলে সেখানকার সাজেশন/প্রেসক্রিপশন ফলো করবেন ইন শা আল্লাহ।
পরিশেষে একটা কথা, দু'আ ও চিকিৎসার পাশাপাশি আমাদের অবশ্যই গুনাহ থেকে বাঁচতে হবে, কারন গুনাহও বাচ্চা হওয়ার অন্তরায় হতে পারে তাই বেশি বেশি করে ইস্তিগফার করুন, প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নিন, দুয়া করুন আর আল্লাহ রব্বুল আ'লামীনের উপর ভরসা রাখুন...
যারা এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন মহান আল্লাহ রব্বুল আ'লামীন তাদের সমস্যা দূর করে দিন, তাদের জন্য সহজ করুন, আর এমন সন্তান-সন্ততি দান করুন যারা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হয়, (আমীন)।
লিখেছেনঃ উম্মে আব্দুল্লাহ(আল্লাহ তায়ালা উনাকে উত্তম...