রুকইয়াহ শুরুর আগে এটা পড়ে নিন

রুকইয়াহ শুরু করার আগে এই লিখা অবশ্যই পড়ে নিন।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
রুকইয়ার আসল কাজ কি?
রুকইয়াহ হচ্ছে আপনার চলার পথে যে সমস্যার কারনে বাধাগ্রস্থ (রোগ বা ক্ষতিগ্রস্থ) হয়েছেন, সে বাঁধাগুলো (বদ-নজর, যাদু-টোনা ও জ্বিনের সমস্যার কারনেহয়ে থাকলে) তা দূর করে দিয়ে আবার আপনাকে আপনার সুস্থতা বা স্বাভাবিক অবস্থানে (আগের অবস্থানে) ফিরিয়ে আনার জন্য শরিয়াহ সম্মত (কুরআন-সুন্নাহ মুতাবেক) চিকিৎসা পদ্ধতি।
রুকইয়াহ শারঈ’য়াহ কি? তা জানতে এই লিঙ্ক গুলো ফলো করুন-
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/145221570642926
বা,
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/150524193445997
রুকইয়ার দ্বারা কি মন যা চায় তাই হাসিল করা যায়?
রুকইয়াহঃ এমন কোনো বিষয় না, যা আপনাকে আসাধ্য সাধন করে দিবে, আপনার মনের আশা পূরন করেই দিবে, আপনাকে বিয়ের ব্যবস্থা করেই দিবে, বাচ্চার ব্যবস্থা করেই দিবে, আপনি যেমনটি চান ঠিক তেমনটি হবেই হবে, খবরদার; এ ধরণের মনোভাব আসাটাই ঈমানের দুর্বলতার লক্ষন, আপনার নিয়ত সহীহ থাকতে হবে, সঠিকভাবে আমল চালিয়ে যেতে হবে সুস্থ হওয়ার জন্য, আপনার কাঙ্ক্ষিত বস্তু পাওয়ার জন্য, আল্লাহ তায়ালা নসীবে রাখলে হবে, নসীবে না রাখলে হবেনা এটাই বিশ্বাস করে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে
রুকইয়াহ করতে চাইলে প্রথমেই আপনার করণীয়ঃ
(ক) তদবীরঃ আপনার সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়ম মতো রুকইয়াহ করতে হবে।
রুকইয়াহ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ঠিক রাখতে হবে।
সতর্কীকরণঃ এডমিনদের সাজেশন ছাড়া কেউ রুকইয়াহ শুরু করলে এবং এতে কোনো প্রকারের ব্যাড ইফেক্ট হলে, সেজন্য আমাদেরকে কোনোভাবেই দায়ী করতে পারবেন না।
১. পাক্কা নিয়তঃ
যত কষ্টই হোক, যত বাধাই আসুক, এদিক-ওদিক দৌড়াদৌড়ি না করে রুকইয়ার আমল করেই যাবো ইনশাআল্লাহ, এভাবে নিয়তকে মজবুত করতে হবে, আর কিসের জন্য রুকইয়াহ করবো সেই বিষয়টা উল্লেখ করে নিয়ত করে নিতে হবে। রুকইয়ার জন্য নিয়ত করবেন যেভাবে তা জানতে এই লিংক ফলো করুন-
https://www.facebook.com/102143264950757/posts/146530403845376
২. আপ্রান চেষ্টাঃ
রুকইয়াহ শুরু করলে বা রুকইয়াহ করার নিয়ত করলে বিভিন্ন ধরণের বাঁধা বা প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়, কখনো কখনো সমস্যা আরো বেড়ে যায়, মনে রাখতে হবে এই বাধাটাও ওই সকল খারাপ প্রভাবের কারনেই হয়ে থাকে, যা আপনাকে সুস্থ হতে দিতে চায় না, সুতরাং আপনার চেষ্টা চালিয়ে যেতেই হবে যদি আপনি সুস্থ হওয়ার আশা রাখেন।
৩. পরিপূর্ণ ধৈর্য্যঃ
কিছুদিন রুকইয়াহ করেই অধৈর্য হওয়া যাবেনা, মনে রাখবেন একজন রুগি ট্রিটমেন্ট এর জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করতে পারে, ইন্ডিয়া যাইতে পারে, সিংগাপুর যাইতে পারে, হাসপাতালে দিনের পর দিন এমনকি মাসের পর মাস শুয়ে থাকতে পারে,… তাহলে প্রয়োজন হলে এক্ষেত্রেও অবস্থার প্রেক্ষিতে ছুটি দরকার হলে ছুটি নিবে, রেস্টে থাকবে এরপর রুকইয়াহ করবেন, বছরের পর বছর ধরে যে রোগ বয়ে বেড়াচ্ছেন তা থেকে পরিত্রান পেতে হলে একটু সময় তো লাগতেই পারে, সুতরাং এডমিনদের সাজেশন ফলো করতে থাকুন
৪. পারিবারিক সাপোর্টঃ
রুকইয়াহ ট্রিটমেন্ট এর ক্ষেত্রে পারিবারিক সাপোর্ট বিশেষ প্রয়োজন (বিশেষ করে জ্বিনের রুগীদের ক্ষেত্রে), কারন এ ধরনের রোগীরা রুকইয়াহ করতে গেলে অমনোযোগী বা বাধাগ্রস্থ হবে, এটা কাংখিত ও খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।
৫. সঠিকভাবে রুকইয়াহ করাঃ
শুদ্ধ তেলাওয়াতে, সম্ভব হলে অর্থসহ বুঝে বুঝে, সাজেশন মোতাবেক নিয়মিত ও মনোযোগের সাথে রুকইয়াহ কন্টিনিউ করতে পারলে, অল্প অল্প আমলেও পরিপূর্ন সফলতা পাওয়া সম্ভব ইনশাল্লাহ।
(খ) তকদীরঃ
(আল্লাহ সুবহানাহু তায়া’লা আপনার জন্য যাহা, যখন এবং যেভাবে ফয়সালা করেছেন) এর উপর পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা রাখতে হবে।
উল্লেখ্যঃ আল্লাহ তায়ালা চাইলে আপনি সুস্থ হবেন বা আপনার কাংখিত বস্তু পাইবেন, আর তিনি না চাইলে সুস্থ হবেন না বা আপনার কাংখিত বস্তু পাইবেন না, আপনার মনে করতে হবে আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তিনি আমার জন্য যেইটা চান সেইটাই হচ্ছে বা হবে, এবং এতেই আমি সন্তুষ্ট।
(গ) ধৈর্য্য ও নামাজঃ
আপনার যা কিছু চাওয়ার তা ধৈর্য সহকারে ও নামাজের মাধ্যমে বেশি বেশি করে মুনাজাতে চাইবেন।
#উল্লেখ্যঃ আপনি রুকইয়াহ করবেন সুস্থ হওয়ার জন্য নিয়ত করে, আর নামাজ পড়ে বেশি বেশি দুয়া করবেন আপনার কাংখিত জিনিষটি পাওয়ার জন্য।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন, আমীন। ...