রুকইয়াহ করতে বাঁধা সমূহ ও তার প্রতিকার

রুকইয়াহ করতে বাঁধাসমূহ ও তার প্রতিকারঃ
★ আপনার মনকে যে বিষয়গুলো বাধাগ্রস্থ করেঃ
১. রুকইয়াহ শুরু করলে জ্বিন চলে আসে,
২. রুকইয়াহ করলে সমস্যা বেড়ে যায়,
৩. রুকইয়াহ করতে ভয় করে।
* এ সবই আপনাকে রুকইয়াহ করা থেকে বিরত রাখার কূটকৌশল, আপনি যাতে সুস্থ না হতে পারেন এজন্য কুমন্ত্রণা প্রদানকারী শয়তান ও আপনার সমস্যাগুলোই আপনার মনকে এসব বলে (আপনার মনকে প্ররোচিত করে) আপনাকে রুকইয়াহ করা থেকে বিরত রাখার অপচেষ্টা করে থাকে, আর আপনিও এই পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে নিজেই নিজের সর্বনাশ ডেকে আনছেন।
* মনে রাখবেন সুস্থতা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা নিয়ামত, এজন্যই অসুস্থ হলে সুস্থতার জন্য বৈধ পন্থায় চিকিৎসা গ্রহন করাও অতীব জরুরি।
* আর ইসলামী শরিয়তে চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে সবচেয়ে উত্তম চিকিৎসা পদ্ধতি হচ্ছে "রুকইয়াহ ও হিজামা", স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবায়ে আজামাঈন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) ও যুগে যুগে সালাফে-সালেহীন গণ খুবই গুরুত্বের সাথে এ পদ্ধতি গ্রহন করেছেন।
* এবার আপনিই ভেবে দেখুন, আপনার কি করা উচিৎ? শয়তানের ধোঁকায় পড়ে রুকইয়াহ করা থেকে বিরত থাকবেন, নাকি আল্লাহ তায়ালার উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা রেখে রুকইয়াহ শুরু করবেন?
★ কোন ধরণের সমস্যায় কিসের রুকইয়াহ করবো?
১. যাদুর সন্দেহ বা যাদুর লক্ষন প্রকাশ পেলে যাদু-টোনা থেকে মুক্তির জন্য আমরা যাদুর রুকইয়াহ করে থাকি।
২. বদনজরের লক্ষন প্রকাশ পেলে আমরা নজর থেকে মুক্তির জন্য নজরের রুকইয়াহ করে থাকি।
৩. ওয়াসওয়াসার লক্ষন প্রকাশ পেলে আমরা ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তির জন্য রুকইয়াহ করে থাকি।
৪. জ্বিন আক্রান্তের লক্ষন প্রকাশ পেলে জ্বিন থেকে মুক্তির জন্য আমরা জ্বিনের আসরের রুকইয়াহ করে থাকি।
★ কিভাবে বুঝবো আমাদের কোন ধরণের সমস্যা?
উপরে বর্ণিত রোগসমূহের লক্ষন বুঝার জন্য প্রথমেই আমরা রোগীর সমস্যাগুলো ডিটেইলস জানার চেষ্টা করি, সমস্যাগুলো শুনে এবং কুরআন-সুন্নাহ ও বাস্তবতার নিরিখে এটা বিচার বিশ্লেষণ করে কোন সমস্যার কারনে রোগী কষ্ট পাচ্ছে তার (লক্ষনগুলো বিবেচনা করে) একটা ধারণা পেয়ে থাকি এবং এর উপরে ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রুকইয়াহ করার সাজেশন দেই।
★ রুকইয়াহ শুরু করলে জ্বিন চলে আসার সম্ভাবনা আছে কি?
হ্যাঁ রুকইয়াহ শুরু করলে, যদি কারো উপর জ্বিনের আসর থাকে বা কাউকে জ্বিনের মাধ্যমে যাদু করা হয়ে থাকে তাহলে এক্ষেত্রে জ্বিন চলে আসার সম্ভাবনাও আছে, তবে এটা সবার ক্ষেত্রে না, কিছু কিছু ক্ষেত্রে (খুবই কম) এমনটা হতে পারে।
★ কারো সাজেশন ছাড়া (ইচ্ছানুযায়ী) রুকইয়াহ শুরু করা উচিৎ নয়ঃ
* নিজে নিজে সেলফ রুকইয়াহ করলেও নিজের ইচ্ছানুযায়ী রুকইয়াহ শরু করা ঠিক নয়, কোনো রাক্কী বা এডমিনের সাজেশন অনুযায়ী রুকইয়াহ শুরু করা উচিৎ, কারন রাক্কী বা এডমিন যখন আপনার সমস্যাগুলো শুনবেন তখন তিনি মুটামুটি বুঝতে পারবেন যে আপনার সেলফ রুকইয়াহ করা উচিৎ কি উচিৎ না, এক্ষেত্রে জ্বিন চলে আসার সম্ভাবনা আছে কিনা এবং আপনার কিসের রুকইয়াহ করা প্রয়োজন।
* যা আপনি নিজেরটা নিজে সহজেই বুঝতে পারবেন না, এবং ভুল কিছু (আপনার জন্য যেটা প্রয়োজন সেটা না করে অন্যটা) করার সম্ভাবনা থাকে, এতে করে অনেকেই রুকইয়ার সুফল পাওয়া থেকে বঞ্চিত থাকে এবং রুকইয়াহ কে দোষারোপ করে থাকে, সুতরাং এ ব্যাপারে আমাদের আরো সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
আশা করছি আপনারা সবাই এবার ক্লিয়ার হতে পেরেছেন।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকেই দুনিয়াবী ও আখেরাতের সকল বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত করুন, আমীন। ...