স্বামী কে বষে রাখার মহৌষধ

#off_topic
স্বামীকে বশে রাখার মহৌষধঃ
স্বামীর ভালোবাসা ধরে রাখার ব্যবস্থাপত্রঃ
একজন স্বামী তার স্ত্রীকে পাগলের মত কখন
ভালবাসে ?
[এক বৃদ্ধা মহিলার সাক্ষাৎকার ]
যিনি তাঁর স্বামীর সাথে সফলতার সাথে কাটিয়ে দিলেন দীর্ঘ পঞ্চাশটি বছর, তাদের জীবন শান্তিতে ভরপুর ছিল, ঝগড়া তো দুরের কথা, দাম্পত্য জীবনে কখনো কথা কাটাকাটি পর্যন্ত হয়নি!
*একজন সাংবাদিক এই বৃদ্ধার কাছে তার পঞ্চাশ বছরের স্থায়ী সফলতার রহস্যের ব্যপারে জানতে চাইলেন।
কি ছিল সে রহস্য?
> মজার মজার খাবার বানানো?
> দৈহিক সৌন্দর্য?
> বেশী সন্তান জন্ম দেয়া?
> নাকি অন্য কিছু?
বৃদ্ধা বললেন,
দাম্পত্য জীবনের সুখ শান্তি প্রথমত আল্লাহর ইচ্ছা অতঃ পর স্ত্রীর হাতেই।
একজন স্ত্রী চাইলে তার ঘরটাকে জান্নাতের টুকরো বানাতে পারেন আবার চাইলে এটাকে জাহান্নামের অংশেও পরিনত করতে পারেন।
কিভাবে?
১. অর্থ দিয়ে?
তা তো হতে পারে না, কেননা অনেক অর্থশালী মহিলা আছেন, যাদের জীবনে দুঃ খ দুর্দশার শেষ নেই, যাদের স্বামী তাদের কাছেই ভিড়তে চাননা।
২. সন্তান জন্ম দিয়ে?
না তাও নয়, কারন অনেক মহিলা আছেন, যাদের অনেক সন্তান আছে, অথচ স্বামী পছন্দ করেন না, এমনকি এ অবস্থায় তালাক দেওয়ার নজিরও কম নয়।
আবার অনেক মহিলা আছেন নিঃ সন্তান কিন্তু স্বামী তাঁকে পাগলের মতো ভালোবাসে।
৩. ভাল খাবার বানিয়ে?
এটাও না, কারণ অনেক মহিলা আছেন, যারা রান্না বান্নায় বেশ দক্ষ, সারা দিন রান্না ঘরে কাজ করেন, অথচ স্বামীর দুর্ব্যবহারের সম্মুখীন হন।
তার কথায় সাংবাদিক বিস্মিত হয়ে গেলেন, বললেন, তাহলে আসল রহস্যটা কি?
তখন বৃদ্ধা বললেন,
যখনই আমার স্বামী রেগে গিয়ে আমাকে বকাবকি করতেন, আমি অত্যন্ত সম্মান দেখিয়ে নিরবতা অবলম্বন করতাম এবং অনুতপ্ত হয়ে মাথা দুলিয়ে তার প্রতিটি কথায় সায় দিতাম। সাবধান! বিদ্রুপের দৃষ্টিতে কখনো চুপ হয়ে থেকো না, কেননা পুরুষ মানুষ বিচক্ষণ হয়ে থাকে, এটা সহজেই বুঝতে পারে।
সাংবাদিকঃ ঐ সময় আপনি ঘর থেকে বের হয়ে যান না কেনো?
বৃদ্ধাঃ সাবধান! সেটা কখনো করবেন না, তখন তিনি মনে করবেন, আপনি তাঁর কথায় বিরক্ত হয়ে পালাতে চাচ্ছেন।
আপনার উচিত, চুপ থেকে ওর প্রতিটি কথায় হা সুচক সায় দেওয়া, যতক্ষণ না তিনি শান্ত হন, অতঃ পর আমি তাকে বলি, আপনার শেষ হয়েছে? এবার আমি যেতে পারি?
তারপর আমি চলে যাই, আর আপন কাজে লেগে যাই, কারন চিৎকার করে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, তার বিশ্রাম প্রয়োজন।
সাংবাদিকঃ এরপর কি করেন?
এক সপ্তাহ খানেক তার থেকে দূরে থাকেন, এবং কথা বলা বন্ধ রাখেন নিশ্চয়?
বৃদ্ধাঃ সাবধান! এধরনের বদভ্যাস থেকে দূরে থাকুন,
যা দুধারী তরবারির চেয়েও মারাত্মক, স্বামী যখন আপনার সাথে আপোষ করতে চাইবে তখন যদি আপনি তার কাছে না যান, তখন তিনি একা থাকতে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন, কখনো কখনো এ অবস্থা তাকে প্রচন্ড জিদের দিকে ঠেলে দেবে। (এমনকি তালাকের দিকেও ঠেলে দিতে পারেন)
সাংবাদিকঃ তাহলে কি করতেন তখন?
বৃদ্ধাঃ দুই ঘন্টা পর এক গ্লাস দুধ বা এক কাপ গরম চা নিয়ে তার কাছে যাই, আর বলি নিন, এগুলো খেয়ে নিন, আপনি খুব ক্লান্ত। এসময় তার সাথে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলি, তারপর তিনি বলেন, রাগ করেছো? আমি বলি, না, তারপর তার দূর্ব্যবহারের জন্য দুঃ খ প্রকাশ করেন এবং স্নেহ ও ভালবাসার কথা বলেন।
সাংবাদিকঃ আপনি কি তার কথা তখন বিশ্বাস করেন?
বৃদ্ধাঃ অবশ্যই বিশ্বাস করি! কারন শান্ত থাকা অবস্থায় তিনি যা বলেন তা বিশ্বাস না করে, রাগান্বিত অবস্থায় যা বলেছিলেন তা বিশ্বাস করবো?
সাংবাদিকঃ তাহলে আপনার ব্যক্তিত্ব?
বৃদ্ধাঃ আমার স্বামীর সন্তুষ্টিই আমার ব্যক্তিত্ব, আমাদের স্বচ্ছ সম্পর্কই আমাদের ব্যক্তিত্ব।
আর স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোন ব্যক্তিত্ব থাকেনা, যার সামনে তুমি পুরোপুরি ভাবে বস্ত্রমুক্ত হয়েছো, তার কাছে আবার কিসের...