রুকইয়াহ করার জন্য নিয়ত করবেন যেভাবে

রুকইয়ার জন্য যেভাবে নিয়ত করবেন-
রুকইয়ার জন্য নিয়ত ঠিক করে নিন এভাবে
(১) বদনজর এর সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য রুকইয়ার নিয়তঃ
ইয়া আল্লাহ আপনার নামে এবং একমাত্র আপনার উপরই ভরসা করে রুকইয়াহ শুরু করছি...আমার যদি জ্বিন অথবা মানুষ কর্তৃক বদ নজর এর সমস্যা হয়ে থাকে, তা থেকে পরিপূর্ণ মুক্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার নিয়তে এই রুকইয়ার আমলগুলো করছি, ইয়া আল্লাহ আপনি আমাকে সুস্থ করে দিন।
(২) যাদুটোনা_সংক্রান্ত_সমস্যা_থেকে_মুক্তির_জন্য_রুকইয়ার_নিয়তঃ
ইয়া আল্লাহ আপনার নামে এবং একমাত্র আপনার উপরই ভরসা করে রুকইয়াহ শুরু করছি... আমার যদি জ্বিন অথবা মানুষ কর্তৃক যাদুটোনা সংক্রান্ত কোনো প্রকারের সমস্যা থাকে তা থেকে পরিপূর্ণ মুক্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার নিয়তে এই রুকইয়ার আমলগুলো করছি, ইয়া আল্লাহ আপনি আমাকে সুস্থ করে দিন।
(৩) জ্বিনের আছর এর সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য রুকইয়ার নিয়তঃ
ইয়া আল্লাহ আপনার নামে এবং একমাত্র আপনার উপরই ভরসা করে রুকইয়াহ শুরু করছি...আমার যদি জ্বিনের আছর এর সমস্যা থেকে থাকে তা থেকে পরিপূর্ণ মুক্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার নিয়তে এই রুকইয়ার আমলগুলো করছি, ইয়া আল্লাহ আপনি আমাকে সুস্থ করে দিন।
(৪) বদ নজর, যাদুটোনা বা জ্বিনের আছর এর সম্মিলিত সমস্যায়ঃ
ইয়া আল্লাহ আপনার নামে এবং একমাত্র আপনার উপরই ভরসা করে রুকইয়াহ শুরু করছি...আমার যদি জ্বিন অথবা মানুষ কর্তৃক (বদ নজর-যাদুটোনা বা জ্বিনের আছর সংক্রান্ত) কোনো সমস্যা হয়ে থাকে, তা থেকে পরিপূর্ণ মুক্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার নিয়তে এই রুকইয়ার আমলগুলো করছি, ইয়া আল্লাহ আপনি আমাকে সুস্থ করে দিন।
(৫) যে কোনো ধরণের সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য রুকইয়ার নিয়তঃ
ইয়া আল্লাহ আপনার নামে এবং একমাত্র আপনার উপরই ভরসা করে রুকইয়াহ শুরু করছি...আমার যেই অসুস্থতা বা সমস্যা হয়েছে (আপনার সমস্যার কথাগুলো মনে মনে উল্লেখ করে নিবেন), এসব থেকে পরিপূর্ণ মুক্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার নিয়তে এই রুকইয়ার আমলগুলো করছি, ইয়া আল্লাহ আপনি আমাকে সুস্থ করে দিন।
লক্ষনীয়ঃ
* নিয়ত করতে হবে শুধুমাত্র সমস্যা থেকে মুক্ত হয়ে সুস্থতা লাভের জন্য।
* বিয়ের জন্য, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বাড়ানোর জন্য, কারো সাথে সম্পর্ক বিচ্ছেদের জন্য, বাচ্চা হওয়ার জন্য এ জাতীয় কিছু নির্দিস্ট করে নিয়ত করে রুকইয়াহ করবেন না।
* রুকইয়ার কাজ হচ্ছে আপনার চলার পথে, যে সমস্যার কারনে বাধাগ্রস্থ (রোগ বা ক্ষতিগ্রস্থ) হয়েছেন, সে বাঁধাগুলো দূর করে আবার আপনাকে আপনার স্বাভাবিক অবস্থানে (আগের অবস্থানে) ফিরিয়ে আনার জন্য শরিয়াহ সম্মত চিকিৎসা পদ্ধতি।
আপনার করণীয়-
আপনার সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়ম মতো রুকইয়াহ করতে হবে। রুকইয়াহ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ঠিক রাখতে হবে।
১. পাক্কা নিয়তঃ যত কষ্টই হোক, যত বাধাই আসুক, এদিক-ওদিক দৌড়াদৌড়ি না করে রুকইয়ার আমল করেই যাবো ইনশাআল্লাহ, এভাবে নিয়তকে মজবুত করতে হবে।
২. আপ্রান চেষ্টাঃ রুকইয়াহ শুরু করলে বা রুকইয়াহ করার নিয়ত করলে বিভিন্ন ধরণের বাঁধা বা প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়, কখনো কখনো সমস্যা আরো বেড়ে যায়, মনে রাখতে হবে এই বাধাটাও ওই সকল খারাপ প্রভাবের কারনেই হয়ে থাকে, যা আপনাকে সুস্থ হতে দিতে চায় না, সুতরাং আপনার চেষ্টা চালিয়ে যেতেই হবে যদি আপনি সুস্থ হওয়ার আশা রাখেন।
৩. পরিপূর্ণ ধৈর্য্যঃ কিছুদিন রুকইয়াহ করেই অধৈর্য হওয়া যাবেনা, মনে রাখবেন একজন রুগি ট্রট্মেন্ট এর জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করতে পারে, ইন্ডিয়া যাইতে পারে, সিংগাপুর যাইতে পারে, হাসপাতালে দিনের পর দিন এমনকি মাসের পর মাস শুয়ে থাকতে পারে,... তাহলে প্রয়োজন হলে এক্ষেত্রেও অবস্থার প্রেক্ষিতে ছুটি দরকার হলে ছুটি নিবে, রেস্টে থাকবে এরপর রুকইয়াহ করবে।
৪. পারিবারিক সাপোর্টঃ রুকইয়াহ ট্রিটমেন্ট এর ক্ষেত্রে পারিবারিক সাপোর্ট বিশেষ প্রয়োজন (বিশেষ করে জ্বিনের রুগীদের ক্ষেত্রে), কারন এ ধরনের রোগীরা অমনোযোগী বা বাধাগ্রস্থ হবে এটা কাংখিত ও খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।
৫. সঠিকভাবে রুকইয়াহ করাঃ শুদ্ধ তেলাওয়াতে, সম্ভব হলে অর্থসহ বুঝে বুঝে, সাজেশন মোতাবেক নিয়মিত ও মনোযোগের সাথে রুকইয়াহ কন্টিনিউ করতে পারলে, অল্প অল্প আমলেও পরিপূর্ন সফলতা পাওয়া সম্ভব ইনশাল্লাহ।
তাকদীরঃ (আল্লাহ সুবহানাহু তায়া'লা আপনার জন্য যাহা, যখন এবং যেভাবে ফয়সালা করেছেন) এর উপর পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, আল্লাহ তায়ালা চাইলে আপনি সুস্থ হবেন বা আপনার কাংখিত বস্তু পাইবেন, আর তিনি না চাইলে সুস্থ হবেন না বা আপনার কাংখিত বস্তু পাইবেন না, আপনার মনে করতে হবে আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তিনি আমার জন্য যেইটা চান সেইটাই হচ্ছে বা হবে, এবং এতেই আমি সন্তুষ্ট।
ধৈর্য ও নামাজঃ আপনার যা কিছু চাওয়ার তা ধৈর্য সহকারে ও নামাজের মাধ্যমে বেশি বেশি করে মুনাজাতে চাইতে হবে।
উল্লেখ্যঃ আপনি রুকইয়াহ করবেন সুস্থতার জন্য নিয়ত করে, আর নামাজ পড়ে বেশি বেশি দুয়া করবেন আপনার কাংখিত জিনিষটি পাওয়ার জন্য।
নিয়ত কি এবং এতো গুরুত্বপূর্ণ কেনো?
নিয়ত সম্পর্কে মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআন মজীদে বলেন,
‘ قُلْ كُلٌّ يَعْمَلُ عَلَىٰ شَاكِلَتِهِ فَرَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَنْ هُوَ أَهْدَىٰ سَبِيلًا
}
বলে দাও, প্রত্যেকেই নিজ নিজ নিয়ত অনুযায়ী কাজ করে।’ (বনী ইসরাইল ৮৪)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
إنَّمَا الأعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَ إنَّمَا لِكُلِّ امْرِىءٍ مَا نَوَى
প্রতিটি আমল গ্রহণযোগ্য না অগ্রহণযোগ্য তা নিয়তের উপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে যার সে নিয়ত করে। (বুখারী ও মুসলিম)
নিয়ত শব্দের আভিধানিক অর্থঃ ইচ্ছা, স্পৃহা, মনের দৃঢ় সংকল্প।
আর শরীয়তের পরিভাষায়ঃ
আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের ইচ্ছায় কোনও কাজের দিকে মনোনিবেশ করাকে নিয়ত বলে।
নিয়ত সম্পর্কে ইমাম খাত্তাবী বলেন, তোমার মনের দ্বারা কোনও জিনিসের প্রতি লক্ষ্য আরোপ করা এবং নিজের দ্বারা এর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেয়া।
নিয়ত শব্দের অর্থ সম্পর্কে আল্লামা বায়যাভী বলেছেন যে, বর্তমান বা ভবিষ্যতের কোনও উপকার লাভ বা কোনও ক্ষতির প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে অনুকূল কাজ করার জন্যে মনের উদ্যোগ উদ্বোধনকেই বলে...