বদনজর,যাদু,জ্বীনের সমস্যা থেকে মুক্তির সহজ উপায়

বদ-নজর, যাদু ও জ্বিনের সমস্যা থেকে মুক্তির/বেঁচে থাকার সহজ উপায়ঃ
বিশেষ করে দুষ্টু জিনের উপদ্রব থেকে বাঁচার গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপায়ঃ
১. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত নিয়মিত আদায় করা (যুখরুফ-৩৬)
২. সকাল-সন্ধ্যার দুয়া ও মাসনুন আমলগুলো গুরুত্বের সাথে নিয়মিত আদায় করা,
ক) সকাল-সন্ধ্যার দুয়া,
i)
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
আ’উযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-ম্মা-তি, মিং-শাররি মা-খলাক্ব (সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার পড়া বিষ, যাদু এবং অন্যান্য ক্ষতি থেকে বাঁচতে)।
ii)
بِسْمِ اللهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ
বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা-ইয়াদ্বুররু মা‘আসমিহী, শাইউং ফিলআরদ্বী ওয়ালা- ফিসসামা-ই, ওয়াহুওয়াস সামি’উল ‘আলীম। (সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার পড়া। (সব ধরনের ক্ষতি এবং বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকতে)।
iii)
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ ، وَلَهُ الْحَمْدُ ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শারীকালাহ, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদ, ওয়াহুওয়া 'আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর।
প্রতিদিন সকালে ১০০ বার পড়া, এর অনেক বেশি ফজিলত, এবং জ্বিন-শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচতে এটা পরিক্ষিত আমল। (বুখারি, মুসলিম হাদিস নং ৪৮৫৭) একশতবার না পারলে, অন্তত ফজর ও আসরের পর ১০বার করে পড়া।
খ) সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক, সুরা নাস: প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে পড়া, সব ধরনের অনিষ্ট থেকে হিফাজতের জন্য এটা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শিখানো আমল। (সুনানে আবি দাউদ)
গ) আয়াতুল কুরছি পাঠ করা প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় এবং পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এর পরে।
ঘ) ঘুমের আগের আমল -
i) ওযু করে ঘুমানো, তাহলে ফিরিশতারা হিফাজতের জন্য দুয়া করতে থাকে। ডান কাত হয়ে ঘুমানো। এমনিতেও সর্বদা ওযু অবস্থায় থাকা সুন্নাত।
ii) শোয়ার পূর্বে কোন কাপড় বা ঝাড়ু দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেয়া।
iii) আয়াতুল কুরসি পড়া (সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া)।
iv) সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক, সুরা নাস পড়ে হাতের তালুতে ফু দেয়া, এরপর পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে নেয়া (এভাবে ৩বার করবে)।
৩. খাবার গ্রহন করার সময় বিসমিল্লাহ বলা, ঘরে প্রবেশের সময় বিসমিল্লাহ বলা।
৪. হাই আসলে মুখে হাত বা কিছু দিয়ে বাধা দেয়া।
৫. ঘুম থেকে ওঠে নাকের ছিদ্রের গভীরে পানি পৌছিয়ে ঝাড়া দেওয়া।
৬. পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
৭. বাথরুমে প্রবেশের সময় দুয়া পড়া।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ
আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ’উযুবিকা, মিনাল খুবসি ওয়াল খবা-ইছ।
৮. ঘরে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করা, বিশেষ করে সুরা বাকারার তেলাওয়াত করা।
৯. কোনো গর্তে বা একেবারে নির্জন পরিত্যক্ত জায়গায় প্রশ্রাব-পায়খানা না করা।
১০. ঘরে কোনও সাপ দেখলেই মারতে না যাওয়া, ৩ বার সতর্ক করবে এরপরেও চলে না গেলে মেরে ফেলা।
১১. স্বামী-স্ত্রীর একান্ত সময়ে দুয়া পড়া।
بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
বিসমিল্লাহি আল্লা-হুম্মা জান্নিবনাশ শাইত্বা-না, ওয়া জান্নিবিশ্-শাইত্বানা মা-রযাকতানা।
১২. ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে সন্ধ্যার আগেই ঘরে প্রবেশ করানোর নিয়ম করা এবং সন্ধ্যার সময় ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ রাখা, সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলে আবার খুলে দিতে পারবেন।
১৩. ঘরের আশে-পাশে বা যেখানে-সেখানে এঁটো (বাসন-প্লেট ধোঁয়া) পানি অথবা যে কোনো প্রকারের ঝুটা ছুঁড়ে না ফেলা, একটা নির্দিশট জায়গায় জমা করে পরে দূরে কোথাও ফেলে দিতে পারেন।
উপরের পয়েন্টগুলোর পাশাপাশি আপনার জন্য অবশ্য করণীয়ঃ
দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসায় পানি, তেল, মধু এবং কালোজিরার ব্যবহার-
একটি বোতলে প্রয়োজন মতো পানি (৭দিনে পান করতে যে পরিমাণ লাগে), প্রয়োজন মতো তেল, মধু এবং কালোজিরা (৭দিনের জন্য যে পরিমাণ লাগে) এগুলো নিয়ে বসুন.....
i) সুরা ফাতিহা ১১ বার পড়ুন আর বোতলের পানি, তেল, মধু এবং কালোজিরাতে ফুঁ দিন।
ii) আয়াতুল কুরসী ৩ বার করে পড়ে বোতলের পানি, তেল, মধু এবং কালোজিরাতে ফুঁ দিন।
iii) সুরা ইখলাস ৩ বার করে পড়ে বোতলের পানি, তেল, মধু এবং কালোজিরাতে ফুঁ দিন। ,
iv) সুরা ফালাক ৩ বার করে পড়ে বোতলের পানি, তেল, মধু এবং কালোজিরাতে ফুঁ দিন।
v) সুরা নাস ৩ বার করে পড়ে বোতলের পানি, তেল, মধু এবং কালোজিরাতে ফুঁ দিন।
পানি তেল মধু এবং কালোজিরা ব্যবহার করার নিয়মঃ
১. সুরাগুলো পড়ে ফুঁ দেয়া এই পানি, তেল, মধু এবং কালোজিরা যতদিন ব্যবহার করতে বলা হবে ততদিন---
(i) পানিঃ সকাল-বিকাল দুইবেলা এক বা আধা-গ্লাস করে পান করবেন প্রতিদিন।
(ii) মধু ও কালোজিরাঃ সকাল ও রাতে ৭ থেকে ১০ টি কালোজিরা ও হাফ টেবিল চামচ করে মধু খাবেন প্রতিদিন।
(iii) তেলঃ রাতের বেলা মাথার তালুতে, চোখ, নাক ও কানের ছিদ্রে তেল দিয়ে ঘুমাবেন, গোছলের পরে চোখ, নাক ও কানের ছিদ্রে তেল দিয়ে দিবেন, আর অঙ্গে কোথাও ব্যাথা থাকলে সেখানে এই তেল মাঝেমাঝে ম্যাসাজ করে দিবেন।
২. রুকইয়ার আয়াত পড়ে ফুঁ দেওয়া পানি, তেল, মধু এবং কালোজিরা যদি শেষ হয়ে যায়, তাহলে আবার এগুলো নিয়ে আগের মত সুরাগুলো পড়ে তৈরি করে নিতে হবে।
৩. (একবার পড়ে নেওয়া পানি, তেল, মধু এবং কালোজিরা সাত দিনের বেশি ব্যবহার না করাই উত্তম, কিছু অবশিষ্ট থাকলে ওগুলোর সাথে আরো পানি, তেল, মধু এবং কালোজিরা মিশিয়ে আগের মত আয়াতগুলো পড়ে তৈরি করে নিলেই হবে)।
৪. নিজে শুদ্ধ করে পড়তে না পারলে অন্য কেউ পড়ে ফুঁ দিয়ে দিলেও হবে।
৫. মেয়েদের পিরিয়ডের সময় অন্য কেউ পড়ে দিবে, নিজেরা পড়বে না
* জমজম কুপের পানি হলে সর্বোত্তম, তা নাহলে বৃষ্টির পানি, তা নাহলে পান করার উপযোগি কোনো কুপের (কুয়োর) পানি, অন্যান্য পানি না পাওয়া গেলে সাধারন পান করার উপযোগি পানি হলেও চলবে।
* জয়তুনের তেল (অলিভ অয়েল) সর্বোত্তম, তা নাহলে সরিষার তেল অথবা আপনি যে তেল ব্যবহার করে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। (বিশেষ প্রয়োজনে কালোজিরার তেল)।
* ওরিজিনাল মধু দেখে নিবেন।
* কালোজিরা ফ্রেশ দেখে নিবেন। ...